পারিবারিক ব্যবসায় অংশীদার করার কথা বলে অর্থ আত্মসাৎ ও হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলা থেকে জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং তাঁর ভাই আলিশান চৌধুরীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান জুলফিকার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। মেহজাবীনের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার আদালতের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার মূল অভিযোগ থেকে জানা যায় যে, দীর্ঘদিনের পরিচিত আমিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি মেহজাবীনের নতুন পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার জন্য ২৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় তিনি তাঁর বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত চান। বাদীর অভিযোগ ছিল যে, টাকা ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে আসামিরা দিনের পর দিন সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন এবং অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে, গত বছরের ১৬ মার্চ হাতিরঝিল এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে এই বিষয়ে আলোচনার জন্য আমিরুলকে ডাকা হয়েছিল। সেখানে মেহজাবীন চৌধুরী, তাঁর ভাই এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাঁকে গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে বাদী দাবি করেন। পরবর্তীতে ভাটারা থানায় প্রতিকার চাইতে গেলে পুলিশ তাঁকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়, যার প্রেক্ষিতে তিনি ফৌজদারী কার্যবিধির ১০৭/১১৭(৩) ধারায় এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
আইনি প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে গত বছরের ১০ নভেম্বর মেহজাবীন ও তাঁর ভাই আদালতে সময়মতো হাজির না হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। এরপর ১৬ নভেম্বর তাঁরা ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা হক তানিয়ার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত সেই সময় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁদের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং জামিন প্রদান করেছিলেন।
অবশেষে সকল তথ্য-প্রমাণ ও আইনি যুক্তিতর্ক বিবেচনা করে আদালত মেহজাবীন ও তাঁর ভাইকে এই মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে অভিনেত্রী ও তাঁর পরিবারের ওপর থাকা আইনি জটিলতার অবসান ঘটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মেহজাবীন বর্তমানে তাঁর পেশাগত কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন এবং আদালতের এই রায়ে তাঁর লিগ্যাল টিম সন্তোষ প্রকাশ করেছে।