পর্দায় সুচিত্রা সেনকে পেছনে বসিয়ে ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ কিংবা চেনা ভঙ্গিতে চার চাকার স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে পথ পাড়ি দেওয়া বাংলা সিনেমার মহানায়ক উত্তমকুমারকে দেখে অনেকেই ভাবতেন, ড্রাইভিং বুঝি তাঁর হাতের খেলা। কিন্তু বাস্তব জীবনে গ্যারেজভর্তি দামি সব গাড়ির মালিক হলেও চালক হিসেবে খুব একটা স্বচ্ছন্দ ছিলেন না তিনি। ৩ সেপ্টেম্বর মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে তাঁর গাড়িপ্রীতি ও চালক জীবনের নানা অজানা গল্প নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
উত্তমকুমারের তারকাখ্যাতি যত বেড়েছে, তাঁর গ্যারেজেও যুক্ত হয়েছে ডজ কিংসওয়ে, র্যাম্বলার, শেভ্রোলে ইম্পালা এবং মরিস মাইনরের মতো নামীদামি ও অভিজাত গাড়ি। এর মধ্যে মার্কিন গাড়ি ডজ কিংসওয়ের প্রতি তাঁর বিশেষ দুর্বলতা ছিল। কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে লং ড্রাইভে বেরিয়ে পড়তেন তিনি। এমনকি জীবনের শেষ যাত্রাতেও তাঁর ব্যবহৃত সাদা রঙের ‘৮৭৮৭’ নম্বরের অ্যাম্বাসেডর গাড়িটিতে করেই তাঁর মরদেহ গ্যারেজ থেকে গিরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে আনা হয়েছিল।
পর্দায় অসাধারণ সাবলীল মনে হলেও তাঁর ছোট ভাই তরুণ কুমারের স্মৃতিচারণা অনুযায়ী, বাস্তবে গাড়ি চালানোর সময় বেশ সতর্ক ও অস্বস্তিতে থাকতেন মহানায়ক। সে কারণে অধিকাংশ সময় ন্যাপা ও প্রভুর মতো বিশ্বস্ত চালকদের ওপরই স্টিয়ারিংয়ের দায়িত্ব সঁপে দিতেন। তবে গাড়ি নিয়ে তাঁর উৎসাহের কমতি ছিল না; নতুন মডেলের খবর রাখা থেকে শুরু করে যন্ত্রাংশ বা কোনো অস্বাভাবিক শব্দ হলে তা পরীক্ষা করার জন্য নিয়মিত গ্যারেজে ঢুঁ মারতেন তিনি।