দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে করা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন প্রত্যাহার করেছেন তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গম। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতের শুনানিতে অংশ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। পরে আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে মামলার কার্যক্রম বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তামিলনাড়ুর চেঙ্গালপট্টুর পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন সঙ্গীতা। আবেদনে দাম্পত্য মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি স্থায়ী ভরণপোষণ এবং চেন্নাইয়ের নীলাঙ্কারাইয়ে অবস্থিত বাড়িতে বসবাসের অনুমতিও চেয়েছিলেন তিনি। তবে মামলাটির শুনানি কয়েক দফা পিছিয়ে যায়।
গত ১৫ জুন আদালতকে মামলা প্রত্যাহারের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন সঙ্গীতা। এরপর পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এর আগে গত মাসে বিজয় ও সঙ্গীতা কেউই আদালতে সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি। তাদের আইনজীবীরা আদালতকে জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগতভাবে শুনানিতে অংশ নেওয়া দুজনের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিংকভিলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঙ্গীতা আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন প্রত্যাহার করায় আদালত শুক্রবার সেটি বাতিল ঘোষণা করে। এর ফলে বিজয় ও সঙ্গীতার দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা গুঞ্জন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট চেন্নাইয়ে বিয়ে করেন থালাপতি বিজয় ও সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গম। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পর ২০২৩ সালে বিজয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনসভা ও অনুষ্ঠানে সঙ্গীতার অনুপস্থিতি ঘিরে প্রথমবার তাদের সম্পর্ক নিয়ে জোরালো গুঞ্জন ছড়ায়। যদিও সে সময় এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালে বিজয়ের রাজনৈতিক দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগামের (টিভিকে) বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সঙ্গীতার অনুপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। চলতি বছর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করার খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। তবে শেষ পর্যন্ত আবেদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে সেই দীর্ঘদিনের গুঞ্জনের অবসান ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।