দীর্ঘ প্রতীক্ষা, একের পর এক মুক্তি-জট আর ব্যক্তিজীবনের নানা গুঞ্জন। সবকিছুকে পেছনে ফেলে অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে এসেছে তামিল সিনেমা ‘কারুপ্পু’ (Karuppu)। আর রূপালি পর্দায় আসতেই তামিল সিনেমাপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ছবিটি। একদিকে যেমন সিনেমাটির টানটান গল্প ও শক্তিশালী অভিনয়ের প্রশংসা করছেন দর্শক-সমালোচকেরা, অন্যদিকে প্রধান অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকে ঘিরে ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুঞ্জন ছবিটিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করেছে।

বিশেষ করে কলিউড সুপারস্টার বিজয়ের সঙ্গে তৃষার সম্পর্ক নিয়ে চলা জল্পনা ‘কারুপ্পু’র প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। ছবির প্রথম দিনের প্রদর্শনীতে তৃষাকে ঘিরে ভক্তদের উচ্ছ্বাস এবং বিজয়কে নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে অভিনেত্রীর লাজুক হাসি, নেটদুনিয়ায় মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। তবে ব্যক্তিজীবনের এই গুঞ্জনের বাইরে গিয়ে ‘কারুপ্পু’ এখন মূলত আলোচিত হচ্ছে তার শক্তিশালী সামাজিক বিষয়বস্তু আর দুর্দান্ত বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য।

অবশ্য মুক্তির পথটি মোটেও সহজ ছিল না। পরিচালক আরজে বালাজি পরিচালিত এই সিনেমাটি মুক্তির আগেই একাধিকবার পিছিয়েছে। প্রথমে ২০২৫ সালের দীপাবলিতে মুক্তির কথা থাকলেও পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজের কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে তামিলনাড়ুর নির্বাচনের জন্য আবারও মুক্তি স্থগিত করা হয়। এমনকি মুক্তির সপ্তাহেও প্রযোজক ও অর্থলগ্নিকারীদের আর্থিক জটিলতায় প্রথম দিনের সকাল ও দুপুরের বেশ কিছু শো বাতিল হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে পরিচালক আরজে বালাজি আবেগঘন পোস্টে লেখেন, "এই সিনেমা শুরু থেকেই বাধার মুখে ছিল। ৩২ মাস ধরে লড়াই করে এখানে পৌঁছেছি।" তবে সব বাধা পেরিয়ে ছবিটি এখন সাফল্যের মুখ দেখছে।

‘কারুপ্পু’র সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো সুপারস্টার সুরিয়া ও তৃষার রাজকীয় পুনর্মিলন। ২০০৫ সালের ব্লকবাস্টার ‘আরু’ সিনেমার দীর্ঘ ২১ বছর পর আবার একসঙ্গে পর্দায় দেখা গেল জনপ্রিয় এই জুটিকে। ছবিতে তৃষা অভিনয় করেছেন প্রীতি নামের এক দৃঢ়চেতা আইনজীবীর চরিত্রে। আর সুরিয়া হয়েছেন ‘সরবনন’, যার চরিত্রটিকে অনেকটা লোকদেবতা কারুপ্পাসামির আধুনিক প্রতিচ্ছবি হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক অসহায় বাবা-মেয়েকে ঘিরে, যারা বছরের পর বছর আদালতে ঘুরেও ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। সেই সুযোগে ক্ষমতার অপব্যবহার করা এক দুর্নীতিগ্রস্ত আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরিচালক আরজে বালাজি নিজেই। পরবর্তীতে সুরিয়ার আগমন এই আইনি লড়াইয়ে এক রোমাঞ্চকর মোড় আনে।

মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে সিনেমাটি। মুক্তির আগেই শুধু অগ্রিম টিকিট বিক্রি থেকেই এটি আয় করেছিল প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ রুপি। প্রথম দিনের বেশির ভাগ শো হাউসফুল যাওয়ার পাশাপাশি সপ্তাহান্তেও ছবিটি দারুণ ব্যবসা করছে। সুরিয়া-তৃষা জুটির ক্রেজ তামিলনাড়ুর বাইরে তেলুগু ও কেরালা বাজারেও ছবিটির প্রতি দর্শক সমাগম বাড়াচ্ছে। সাই অভয়ংকরের আবহসংগীত এবং জি কে বিষ্ণুর দুর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফি ছবিটির রহস্য ও আবেগকে আরও গভীর করেছে। দৈর্ঘ্য নিয়ে কিছুটা সমালোচনা থাকলেও শেষের দিকের হাই-ভোল্টেজ অ্যাকশন ও আবেগঘন দৃশ্য সেই দুর্বলতা ঢেকে দিয়েছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ‘কারুপ্পু’ দিয়ে তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে আরেকটি সফল প্রত্যাবর্তন দেখলো দর্শকেরা।