কান চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামার আগেই একে একে জমজমাট সব চমক উপহার দিচ্ছে বিশ্ব চলচ্চিত্রের এই মহোৎসব। গত শনিবার উৎসবের পঞ্চম দিনে স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম থেকে শুরু করে ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট ও জেমস গ্রের মতো হলিউড তারকারা উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন।

উৎসবে এদিন বাজিমাত করেছে স্প্যানিশ নির্মাতা রদ্রিগো সরোগোয়েনের নতুন সিনেমা ‘দ্য বিলাভড’ (The Beloved)। প্রিমিয়ার শেষে প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত দর্শকেরা টানা সাত মিনিট দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে (স্ট্যান্ডিং ওভেশন) সিনেমাটিকে অভিনন্দিত করেন। দর্শকদের এমন অকুণ্ঠ ভালোবাসা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধান চরিত্রের অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম। তিনি হাসিমুখে সহশিল্পীদের এবং উৎসব পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমোকে জড়িয়ে ধরেন। অস্কার মনোনীত পরিচালকের এই সিনেমায় বারদেম এক কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেখানে তাঁর থমকে যাওয়া ক্যারিয়ারের মেয়ের ভূমিকায় স্ক্রিন শেয়ার করেছেন ভিক্টোরিয়া লুয়েঙ্গ। বাবা-মেয়ের সম্পর্কের পুরোনো ক্ষত ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের গল্প এটি।

শনিবার রাতের আরেকটি আলোচিত মুহূর্ত ছিল জেমস গ্রের ‘পেপার টাইগার’ (Paper Tiger) সিনেমার প্রিমিয়ার। প্রদর্শনী শেষে এই ছবিটিকেও দর্শকেরা টানা সাত মিনিট দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে সম্মান জানান। তবে ছবির অন্যতম প্রধান তারকা স্কারলেট জোহানসন অন্য সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় কানে হাজির হতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতি ঢাকতে পরিচালক জেমস গ্রে হলভর্তি দর্শকদের সামনেই স্কারলেটকে ফেসটাইম (ভিডিও কল) করেন। কিন্তু কয়েকবার রিং হওয়ার পরও ওপার থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে কলটি ভয়েসমেলে চলে যায়। পরিচালকের এমন রসাত্মক কাণ্ড ও হতাশ মুখের অভিব্যক্তি দেখে পুরো হলের দর্শকেরা হেসে ওঠেন। স্কারলেট না থাকলেও সিনেমার বাকি দুই তারকা মাইলস টেলার ও অ্যাডাম ড্রাইভার লালগালিচায় হাজির হয়ে ভক্তদের সেলফি ও অটোগ্রাফের আবদারে মেতে ওঠেন। রুশ মাফিয়ার জগতে জড়িয়ে পড়া দুই ভাইয়ের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘পেপার টাইগার’।

এদিকে কানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে হলিউডের স্টুডিও সংস্কৃতির প্রতি নিজের তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। তাঁর অভিনীত ‘ফুলফিল’ (Fulfill) সিনেমাটি কানের মিডনাইট স্ক্রিনিংস বিভাগে প্রদর্শিত হওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "কোটিপতিদের আরও ধনী বানানোর প্রবণতা এখন কমানোর সময় এসেছে। বর্তমান স্টুডিও ব্যবস্থা নিয়ে আমি ভীষণ ক্লান্ত।" স্বাধীন বা স্বাধীনচেতা (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) নির্মাতাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ক্রিস্টেন আরও যোগ করেন, বড় স্টুডিওগুলো এখন শুধু অর্থনৈতিক মুনাফাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে, যেখানে সৃজনশীল স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কুয়েন্টিন ডুপিউক্স পরিচালিত এই সিনেমাটি দিয়ে কান উৎসবে স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্রের জয়গান গাইলেন এই হলিউড অভিনেত্রী।