উপমহাদেশের সংগীতাকাশ থেকে খসে পড়ল আরও একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই বাংলায়। প্রিয় ‘আশা দিদি’র মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর নিজেকে সামলাতে পারছেন না বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী রুনা লায়লা। দীর্ঘদিনের পথচলা আর গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিদায়ে তিনি হয়ে পড়েছেন বাকরুদ্ধ।
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশা ভোঁসলের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের খবর শুনে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান রুনা লায়লা।
ব্যথিত হৃদয়ে রুনা লায়লা বলেন:
“মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেল। পৃথিবীর বড় বড় দু’জন কিংবদন্তি শিল্পী পরপর চলে গেলেন। লতা মঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে চলে গেলেন, আর এখন আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না।”
আশা ভোঁসলের সঙ্গে নিজের আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন:
“তারা দুজনেই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন, মায়ের মতোই। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার সুর করা গান ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’-এর রেকর্ডিংয়ের সময় আমাদের শেষ দেখা হয়েছিল। এরপর ফোনে যোগাযোগ থাকলেও কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম কথা বলব। আজ করব, কাল করব, এই ভাবনায় আর করা হয়নি। শেষ কথাটাও বলা হলো না।”
ফোনে কথা না বলতে পারার আক্ষেপ ঝরে পড়ল রুনার কণ্ঠে:
“যখন মনে হয়েছিল দিদিকে ফোন করি, যদি তখনই করতাম, তাহলে হয়তো আজ এই আফসোসটা থাকত না। নিজের ভেতরে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, ৯২ বছর বয়সী আশা ভোঁসলে হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল, যা অপূরণীয় এক শূন্যতা তৈরি করল বিশ্ব সংগীতে।