সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাঁর প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি প্রতিনিয়ত আনন্দ ছড়াতো, সেই কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তরুণ অভিনেত্রী কারিনা কায়সার এবার চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে রইলেন। আজ সোমবার (১৮ মে) সকালে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে এই অভিনেত্রীকে। তবে প্রিয় মানুষটিকে বিদায় জানানোর শেষ মুহূর্তটুকু পুরোপুরি নিজেদের একান্ত আড়ালে রাখতে চেয়েছিল তাঁর পরিবার। আর তাই কোনো প্রকার প্রচার বা লোকসমাগম ছাড়াই সম্পূর্ণ পারিবারিক আবহে সম্পন্ন হয়েছে দাফন কাজ।

আজ সকাল ৭টার দিকে গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডের পেছনে আবদুল্লাহপুর গ্রামে কারিনা কায়সারের শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে একই গ্রামে তাঁর নানি জোহরা খানমের বাগানবাড়ির আঙিনাতেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় এই অভিনেত্রীকে। দাফনের সময় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল না; এমনকি মুঠোফোন, ক্যামেরা বা গণমাধ্যমকর্মীদেরও ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানায় পরিবার।

এর আগে গতকাল রবিবার বিকেলে ভারত থেকে কারিনার মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর ঢাকায় তিন দফা জানাজা ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব সম্পন্ন হয়। এরপর রাতেই মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায়। প্রিয় তারকাকে শেষনজর দেখতে ভোর থেকেই স্থানীয়রা ভিড় করলেও পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুরো আয়োজন ব্যক্তিগত রাখা হয়।

দাফন শেষে কারিনার ছোট ভাই সাদাত হামিদ গণমাধ্যমকে বলেন, "ঢাকায় জানাজার সময় গণমাধ্যমকর্মীরা ছিলেন। তবে দাফনের সময় পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো মিডিয়াকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমরা মূলত প্রচার ও অতিরিক্ত লোকসমাগম থেকে আড়ালে থাকার জন্যই গ্রামে এসেছি। আশা করি, আপনারা আমাদের মানসিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।"

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ ও লোপা কায়সার দম্পতির কন্যা কারিনা কায়সার গত ১৫ মে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র ৩০ বছর বয়সে মারা যান। তিনি ছিলেন বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদের নাতনি। লিভার ফেইলিউর ও ফুসফুসের তীব্র সংক্রমণে ভুগছিলেন তিনি।

ফেসবুক ও ইউটিউবে জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট দিয়ে দারুণ জনপ্রিয় হওয়া কারিনা ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। তাঁর অভিনীত ও অনবদ্য চিত্রনাট্যে তৈরি ওয়েব সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং সিনেমা ‘৩৬-২৪-৩৬’ দর্শক হৃদয়ে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবে। তাঁর এই অকাল প্রস্থানে দেশের শোবিজ অঙ্গনে একটি সম্ভাবনাময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।