বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। আর এই সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে তাঁর মা, বর্ষীয়ান অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম এর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।

মুক্তি জানান, তাঁর মা সবসময় চাইতেন তিনি যেন শিল্পীদের কল্যাণে বড় দায়িত্ব নেন এবং শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে থেকে কাজ করেন। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

শুধু পারিবারিক অনুপ্রেরণাই নয়, বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে গত দেড় বছরের অভিজ্ঞতাও তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে সাহস জুগিয়েছে। এই সময়ে তিনি সহকর্মী শিল্পীদের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন ঈদ উপলক্ষে উপহার বিতরণ, নানা অনুষ্ঠান আয়োজন এবং প্রয়াত শিল্পীদের স্মরণসভা আয়োজনের মতো উদ্যোগে যুক্ত থেকেছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে রয়েছেন মিশা সওদাগরডিপজল। তাদের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে ২৪ এপ্রিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মেয়াদ শেষে তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক, ফলে আগামী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এবারের নির্বাচনে মুক্তির নেতৃত্বে একটি প্যানেল গঠনের আলোচনাও চলছে। শিল্পীদের একটি অংশ মনে করছেন, পারিবারিক ঐতিহ্য, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখছে।

১৯৯২ সালে গৌতম ঘোষ এর ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন মুক্তি। এরপর ‘চাঁদের আলো’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘হাছন রাজা’, ‘জগৎ সংসার’সহ একাধিক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দর্শকদের ভালোবাসা অর্জন করেন।

সব মিলিয়ে, মায়ের স্বপ্নপূরণ ও শিল্পীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে নতুন এক অধ্যায়ে পা রাখছেন রুমানা ইসলাম মুক্তি। এখন দেখার বিষয়, শিল্পী সমিতির নির্বাচনে তার এই যাত্রা কতটা সফল হয়।