গ্রেপ্তার ও কারাবাসের কয়েক মাস পর সেই অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন ঢালিউড চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। সম্প্রতি রুম্মান রশিদ খানের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি জানান, বিমানবন্দর থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার হওয়া এবং পরবর্তী দুই দিনের জেলজীবন তাঁর জীবনের অনেক চেনা মানুষকে নতুন করে চিনিয়ে দিয়েছে।
নুসরাত ফারিয়া বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এমন খবর আগেই শুনেছিলেন। তবে তখন দেশের বাইরে থাকায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে গিয়ে পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রথম বুঝতে পারেন। ইমিগ্রেশনে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর ডিটেনশন রুমে নেওয়া হলে তিনি বুঝে যান, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, সেই মুহূর্তে যেন পুরো পৃথিবী থমকে গিয়েছিল।
কারাগার থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, মাত্র দুই দিনের জেলজীবনেই তিনি জীবনের বড় শিক্ষা পেয়েছেন। সবচেয়ে কষ্ট পেয়েছেন কাছের মানুষদের আচরণে। অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তাঁর সঙ্গে থাকা ছবি সরিয়ে ফেলেন, কেউ কেউ যোগাযোগও বন্ধ করে দেন। অভিনেত্রীর কথায়, “এই ৪৮ ঘণ্টাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে কে আমার আপন, আর কে নয়।”
তবে এই ঘটনার পর কিছু মানুষের ভালোবাসা তাঁকে ভীষণভাবে আপ্লুত করেছে। তিনি বলেন, অচেনা অনেক মানুষ, এমনকি জেলের ভেতরের লোকজনও তাঁকে সহানুভূতি ও সম্মান দেখিয়েছেন। খাবার খেতে না পারলেও কেউ কেউ নিজের হাতে তাঁকে খাইয়ে দিয়েছেন। আবেগঘন কণ্ঠে ফারিয়া বলেন, অজানা সেই মানুষগুলোর দয়া ও মানবিকতা তিনি কখনো ভুলবেন না।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় নুসরাত ফারিয়াকে আটক করা হয়। পরে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর ‘হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগে ভাটারা থানার একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।