সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা থেকে এবার চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন নীহারিকা এনএম। গত ৩০ জুলাই মুক্তি পেয়েছে তাঁর প্রথম বলিউড সিনেমা ‘ভাই তেরা স্টার হ্যায়’। রাঘব জুয়ালের সঙ্গে অভিনীত এই সিনেমা মুক্তির আগে নিউজ১৮কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবনের শুরু, বিভিন্ন প্রত্যাখ্যান এবং ক্যারিয়ারে নেওয়া কঠিন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।

নীহারিকা জানান, কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার অনেক আগেই অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সেই লক্ষ্যেই কয়েক বছর আগে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান। সেখানে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রায় তিন বছর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি ফিল্ম স্কুলে পড়াশোনা এবং থিয়েটারেও কাজ করেন তিনি।

তবে বলিউডে ক্যারিয়ার শুরু করতে গিয়ে প্রথমেই হতাশ হতে হয় নীহারিকাকে। তাঁর মতে, হিন্দি চলচ্চিত্রে নারীদের চেহারা, গায়ের রং ও সৌন্দর্য নিয়ে যে ধরনের নির্দিষ্ট প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সেটি তাঁর কাছে স্বস্তিকর মনে হয়নি। পাশাপাশি বলিউডের তীব্র প্রতিযোগিতাও তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। ফলে একটা সময় বলিউডের বদলে দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্রে মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এরপর নির্মাতা কার্তিক সুব্বারাজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্টোন বেঞ্চ ফিল্মসের সঙ্গে তিনটি সিনেমার চুক্তি করেন নীহারিকা। কিন্তু পরবর্তীতে সেই চুক্তিই তাঁর ক্যারিয়ারে আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চুক্তির মেয়াদ চলাকালে দক্ষিণ ভারতের বেশ কয়েকটি বড় সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চুক্তিগত বাধ্যবাধকতার কারণে সেসব ছবিতে কাজ করা সম্ভব হয়নি। পরে সেই সিনেমাগুলো বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ তৈরি হয় তাঁর।

তবে নীহারিকা জানিয়েছেন, অন্যদের সাফল্যে তিনি খুশি। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর কোনো বাধা না থাকায় বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় কাজের সুযোগ পান তিনি। নিজের ক্যারিয়ারও ধীরে ধীরে নতুন পথে এগিয়ে নিতে শুরু করেন।

সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন নীহারিকা। এক খ্যাতিমান পরিচালকের সিনেমায় অভিনয়ের জন্য অডিশন ও লুক টেস্ট সম্পন্ন করার পর চুক্তিতেও সই করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে চুক্তিতে থাকা ‘ইনটিমেসি ক্লজ’ বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যসংক্রান্ত একটি শর্ত নিয়ে আপত্তি জানান।

নীহারিকার ভাষ্য, পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে তিনি স্বচ্ছন্দ নন। বিষয়টি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে জানালে তাঁরা তাঁর অবস্থান মেনে নিয়ে বডি ডাবল ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। কারণ ওই দৃশ্যে সহশিল্পী বডি ডাবলের সঙ্গে অভিনয় করতে রাজি ছিলেন না।

পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, হয় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে, নয়তো সিনেমা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। নিজের ব্যক্তিগত সীমারেখা ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে আপস না করে শেষ পর্যন্ত ছবিটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নীহারিকা। তবে তিনি ওই সিনেমার পরিচালক বা সহশিল্পীর পরিচয় প্রকাশ করেননি।

নীহারিকার এই সিদ্ধান্ত তাঁর ক্যারিয়ারে একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া করলেও নিজের মূল্যবোধ ও ব্যক্তিগত সীমারেখাকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টিই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন বলিউড সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়জগতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর পর এখন সামনে আরও ভিন্নধর্মী কাজ নিয়ে এগিয়ে যেতে চান এই অভিনেত্রী।