‘হাওয়া’ সিনেমায় অভিনয়ের পর নাজিফা তুষিকে নতুনভাবে চিনেছে দর্শক। মেজবাউর রহমান সুমনের পরিচালনায় ২০২২ সালের ২৯ জুলাই মুক্তি পাওয়া ছবিটি তাঁকে এনে দেয় ব্যাপক প্রশংসা। কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় বড় পর্দায় তাঁকে দেখা যায়নি। সেই অনুপস্থিতি ঘিরে কৌতূহল ছিল দর্শকের। প্রশ্নটা যে আসবে, তা তুষিও জানতেন।

তাঁর ব্যাখ্যা পরিষ্কার, ‘অনেক দিন আমার কাজ পর্দায় আসেনি। তবে আমি নিয়মিত কাজ করেছি। এখনো কোনো সিনেমা মুক্তি না পাওয়ায় দর্শকেরা সেটা দেখেননি।’

২০১৫ সালে রেদওয়ান রনির আইসক্রিম দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক লাক্স তারকা তুষির। এরপর হাওয়া, এই পথ পাড়ি দিতে লেগেছে সাত বছর। এক দশকের ক্যারিয়ারে মুক্তি পাওয়া সিনেমা মাত্র দুটি। কাজের সংখ্যা কম হওয়া নিয়ে অনুরাগীদের আক্ষেপও কম নয়। তুষি বলছেন, এই অপেক্ষার পেছনে ছিল নিজেরই সিদ্ধান্ত।

হাওয়া করার আগে ভালো কাজের অপেক্ষায় থাকতাম, তাই কম কাজ করেছি। এখন সেই জায়গায় নেই। একদমই কম কাজ করছি না।’

হাওয়া মুক্তির পর ছয় মাস বিরতি নেন তিনি। এরপর টানা তিন বছর সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। তুষির কথায়, ‘ক্যারিয়ারে এত টানা কাজ কখনো করিনি। এটা আমার সবচেয়ে ব্যস্ত সময়।’

এই সময়ে শেষ করেছেন আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ সাদের একটি সিনেমা (নাম প্রকাশ হয়নি), মেজবাউর রহমান সুমনের রইদ, রায়হান রাফীর আন্ধার। মার্চে শুরু করবেন এন রাশেদ চৌধুরীর সখী রঙ্গমালা এর শুটিং। এর বাইরে আরও একটি সিনেমার কাজ চলছে, যার বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

এর মধ্যেই সুখবর রইদ নির্বাচিত হয়েছে রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ টাইগার কম্পিটিশনে। উৎসব পর্ব শেষে সিনেমাটি এ বছর মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আন্ধারসখী রঙ্গমালাসহ তুষির একাধিক সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায়।

কোন সিনেমায় কোন চরিত্রে

'রইদ' এর ট্রেলারে তুষির উপস্থিতি আলাদা করে নজর কেড়েছে। এখানে তাঁর চরিত্রের কোনো নাম নেই। পরিচয়, তিনি ‘সাদুর বউ’। নামহীন এই চরিত্র নিয়ে তুষির ব্যাখ্যায় আছে গভীর অর্থ।

‘এই অঞ্চলের নারীরা জন্মের পর বাবার পরিচয়ে, বিয়ের পর স্বামীর পরিচয়ে, পরে সন্তানের পরিচয়ে পরিচিত হয়। নিজের নামটা কোথাও হারিয়ে যায়। তাই চরিত্রটির কোনো নাম নেই। সে নিজেও নিজের নাম জানে না। নির্মাতা এটা প্রতীকীভাবে দেখিয়েছেন।’

সিনেমায় সাদু চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। সাদু, তার স্ত্রী আর বাড়ির পাশের একটি তালগাছ, এই তিনকে ঘিরেই গল্প। হাজার বছরের পুরোনো লোকজ আখ্যানকে সমসাময়িক ভাষায় নতুন করে বলেছেন নির্মাতা।

ভৌতিক সিনেমা আন্ধার, এ তুষি অভিনয় করেছেন নাদিয়া চরিত্রে। শুটিং শেষ, চলছে পোস্ট-প্রোডাকশন। সখী রঙ্গমালায় তিনি রঙ্গমালা। বাকি দুটি সিনেমার চরিত্রের নাম আপাতত প্রকাশে অনিচ্ছুক।

গ্ল্যামারহীন চরিত্রে আপত্তি নেই

গুলতি থেকে সাদুর বউ, গ্ল্যামারহীন চরিত্রে অভিনয় নিয়ে তুষির কোনো দ্বিধা নেই। অনেকেই যেখানে এটাকে ঝুঁকি ভাবেন, তুষির কাছে তা স্বাভাবিক।

‘একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকা আমার কাজ না। ভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে জীবনকে দেখতে ভালো লাগে। আলাদা কিছু পেলেই সেটার ভেতরে ঢুকে পড়তে চাই, এক্সপ্লোর করতে চাই। সেখানে গ্ল্যামার থাকুক বা না থাকুক তাতে কিছু যায় আসে না। চরিত্রটা কতটা ধারণ করতে পারছি, সেটাই আসল।’

নতুন বছরের ভাবনা

এ বছর তুষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক সিনেমা মুক্তি পাবে। দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখেই পরের সিদ্ধান্ত নিতে চান তিনি।

‘আমার করা কাজগুলো দর্শকেরা কীভাবে নেয়, সেটা দেখার পরই ঠিক করব পরের পথ। নিজের মতো করে চরিত্র বেছে নিতে চাই, ভালো কাজ করতে চাই এইটাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।’