২০১৬ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সশস্ত্র ডাকাতির শিকার হয়েছিলেন মার্কিন তারকা কিম কার্দাশিয়ান। ওই ঘটনায় ৬০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের গয়না লুট হয়েছিল। প্রায় এক দশক পর সেই মামলায় কার্দাশিয়ানকে মাত্র ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্যারিসের একটি আদালত। তবে এই ১ ইউরোই ক্ষতিপূরণ হিসেবে চেয়েছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দেওয়া আদালতের রায়কে অর্থের দিক থেকে দেখছেন না কার্দাশিয়ান। সংবাদ সংস্থা এপিকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে কার্দাশিয়ান ও তার রূপসজ্জাশিল্পী সিমন হারুশ জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত তাদের কাছে জবাবদিহি ও ঘটনার স্বীকৃতির প্রতীক।
কার্দাশিয়ান বলেন, ২০১৬ সালের সেই ডাকাতির ঘটনা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। ঘটনার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তার ও পরিবারের ওপর এখনো রয়েছে। তবে সেই অধ্যায় পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি।
২০১৬ সালের ২ অক্টোবর প্যারিস ফ্যাশন সপ্তাহ চলাকালে একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন কার্দাশিয়ান। ওই সময় পুলিশের পোশাক পরা দুই ডাকাত জোর করে তার কক্ষে ঢুকে পড়ে। পরে জিপ টাই ও টেপ দিয়ে তাকে বেঁধে তার কাছ থেকে ৬০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়।
লুট হওয়া গয়নার মধ্যে একটি হীরার আংটিও ছিল, যেটি ওই রাতে একটি ফ্যাশন প্রদর্শনীতে পরেছিলেন কার্দাশিয়ান।
ডাকাত দলের সদস্যদের বয়স তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ফ্রান্সে তাদের ‘দাদু ডাকাত’ নামে অভিহিত করা হয়েছিল। বিচার চলাকালে তাদের মধ্যে ছয়জনের বয়স ছিল ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।
গত বছর এই ডাকাতির ঘটনায় আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। বিচার-পূর্ব আটক অবস্থায় ইতোমধ্যে সাজা ভোগ করে ফেলায় তাদের কাউকেই নতুন করে কারাগারে যেতে হয়নি। রায়ের বিরুদ্ধে তাদের কেউ আপিলও করেননি।
এরপর ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে শুনানি হয়। আদালত কিম কার্দাশিয়ানকে ১ ইউরো এবং তার রূপসজ্জাশিল্পী সিমন হারুশকেও ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। ডাকাতির সময় হারুশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া হোটেলটির সাবেক এক কর্মীকে ১ লাখ ৯ হাজার ৫১৬ ইউরো এবং হোটেল কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই কর্মী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার কথা জানিয়ে ক্ষতিপূরণ ও সুদ বাবদ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ ইউরো দাবি করেছিলেন। তার আইনজীবী আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
রায়ের পর যৌথ বিবৃতিতে ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান কার্দাশিয়ান ও হারুশ। তাদের মতে, সেই অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং এর প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। তবে আদালতের সিদ্ধান্ত তাদের কাছে শুধু ক্ষতিপূরণের বিষয় নয়, বরং জবাবদিহি ও ভুক্তভোগীদের প্রতি স্বীকৃতির প্রমাণ।
কার্দাশিয়ান বলেন, ঘটনাটি তিনি কখনো ভুলতে পারবেন না। তবে মানুষের মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা এবং জবাবদিহির শক্তিতে তিনি বিশ্বাস করেন। এখন তিনি ও তার পরিবার সেই ঘটনা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চান।