ঝাড়খণ্ডে শিক্ষার্থী ও সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের চলমান আন্দোলন এবং এ নিয়ে তারকাদের নীরবতা নিয়ে প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহর পুরনো মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউত। নাসিরুদ্দিনের বক্তব্যের সূত্র ধরে তাঁকে কটাক্ষ করে কঙ্গনা দাবি করেছেন, যে দেশের অন্ন খাওয়া হয়, সেই দেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই উচিত। এমনকি নাসিরুদ্দিনের মতো ‘শিয়াল’ হওয়ার চেয়ে অনুগত ‘কুকুর’ হওয়া ভালো বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
গত ২৫ জুলাই থেকে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলন করছেন শত শত শিক্ষার্থী ও সরকারি চাকরিপ্রার্থী। এই আন্দোলন নিয়ে তারকাদের নীরবতা প্রসঙ্গে এর আগে নাসিরুদ্দিন শাহ মন্তব্য করেছিলেন, তারকারা তখনই কোনো বিষয়ে মুখ খোলেন, যখন তাঁদের বিবেক তাতে সায় দেয়।
সে সময় একটি প্রচলিত প্রবাদ ব্যবহার করে নাসিরুদ্দিন বলেছিলেন, মুখে হাড় থাকলে কুকুর ঘেউ ঘেউ করতে পারে না। হাড় মুখ থেকে পড়ে গেলেই কেবল সে আওয়াজ তুলতে পারে। তাঁর এই মন্তব্য মূলত তারকাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা ও স্বার্থের বিষয়টি বোঝাতে করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট নাসিরুদ্দিনের সেই মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিশানা করেন কঙ্গনা রানাউত। কঙ্গনা বলেন, প্রত্যেক মানুষই কোনো না কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দেশের প্রতি অনুগত। তবে যে দেশের অন্ন খাওয়া হয়, সেই দেশের জন্য লড়াই করতে পারাকে তিনি নিজের জন্য গর্বের বিষয় মনে করেন।
নাসিরুদ্দিনের ‘কুকুর’ উপমার জবাব দিতেও পিছপা হননি কঙ্গনা। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সময়ে কাউকে ‘কুকুর’ বলা অনেক ক্ষেত্রেই প্রশংসার মতো। কারণ আনুগত্য ও সরলতা এখন বিরল হয়ে উঠেছে।
কঙ্গনার মন্তব্য ঘিরে এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। নাসিরুদ্দিন শাহর পুরনো বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার কঙ্গনার পাল্টা মন্তব্যে আরও রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মাত্রা পেয়েছে। তবে নাসিরুদ্দিনের এই বক্তব্যের পর কঙ্গনার মন্তব্যের বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।