অভিনেতা জাহের আলভী-র স্ত্রী আফরা ইবনাত খান ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেখানে নিজের নাম জড়ানোয় অবশেষে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। দুই দিন নীরব থাকার পর বুধবার বিকেলে ফেসবুকে দীর্ঘ এক পোস্ট দেন তিনি।

ইকরার সঙ্গে ব্যক্তিগত চ্যাটের ৪০টিরও বেশি স্ক্রিনশট প্রকাশ করে তিথি লেখেন, ‘ভেবেছিলাম, এগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করব না। প্রশাসনের প্রয়োজন হলে সেখানে দেব, সবার সম্মান রক্ষার্থে। কিন্তু আমাকে যেভাবে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে, আর চুপ থাকা গেল না। ইতোমধ্যে কিছু জায়গায় আমি অডিও বক্তব্য দিয়েছি।

নিজেরা খুব সাধু সাজতেছেন, আপনারা কি সেটার আমলনামাও আছে। শুধু আমার কাছে না। অনেকের কাছেই আছে। যদি আমার কিছু হয়ে যায় তাহলেও যেন সেটা সামনে আসে।

আর যদি আমাকে মেরে ফেলে, হ্যারেজ করে অনেক মানুষ আছে সেগুলো পাবলিকের সামনে আনার। চাই নাই আপনার সাথের মেয়েগুলোর ঝামেলা করতে! প্রয়োজন হলে সেই আমলনামাও আসবে সামনে।’

তিনি দাবি করেন, আলভীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সদ্য প্রয়াত ইকরার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ এবং নিয়মিত যোগাযোগ হতো। পারিবারিক অশান্তি, ব্যক্তিগত হতাশা ও মানসিক অবসাদের বিষয়েও ইকরা তার সঙ্গে কথা বলতেন বলে জানান তিথি।

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি লেখেন, “কারো সংসার ভাঙার ইচ্ছা আমার ছিল না। ও কয়েকবারই আমাকে বলেছে, সে আমেরিকা চলে যাবে। তখন আমি বরাবরই বলেছি, ‘চাইলেও যেতে পারবে না, তুমি আলভীকে ভালোবাসো, তুমি তার কুইন।’ তাহলে আত্মহত্যার জন্য আমি কিভাবে উসকানি দেব? যাই বলেন, এটা বলতে পারেন না যে আমি ওকে নিজের জীবন নেওয়ার জন্য উস্কে দিয়েছি। সে তার নিজের জীবন নিজে নিয়েছে, সন্তানটার কথা একটাবার মা হয়ে ভাবলে আজকে এই জীবনটা থাকত।”

পোস্টে ইকরার পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে তিথি লেখেন, ‘একটা মেয়ে যতই হোক, নিজের মা-বাবা নিয়ে তো মিথ্যা বলবে না। আমি তাদের দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু ইকরার মনে পরিবার নিয়েও কষ্ট ছিল। ওর মনে হতো, পরিবার তাকে নিজের হালে ছেড়ে দিয়েছে। ২০১৮ সালে একবার আলাদা হয়ে যাওয়ার পর সে বাবাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিল, কিন্তু সমর্থন পায়নি। সেখান থেকেই ক্ষোভ জন্মায়, যা পরে আর প্রকাশ করেনি।’

সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, যদি তার কোনো ক্ষতি হয়, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো যেন বিষয়টি তদন্ত করে। পাশাপাশি লেখেন, ‘আল্লাহ ইকরাকে ভালো রাখুক, শান্তিতে রাখুক। ওর এই চিরনিদ্রা শান্তির হোক। আর দূর থেকেই রিজিকের জন্য এত দোয়া করুক, যাতে ওর জীবনটা সুন্দর হয়।’