অক্ষয় কুমার এবং প্রিয়দর্শন জুটির দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভৌতিক কমেডি সিনেমা ‘ভুত বাংলো’ বড় পর্দায় এক রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। মুভি টকিজের রিভিউ অনুযায়ী, এই কালজয়ী জুটি তাদের চিরচেনা রসায়নের সাথে আধুনিক নির্মাণের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে দর্শকদের জন্য একটি সম্পূর্ণ বিনোদনমূলক অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছে। সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে অর্জুন আচার্য নামক এক যুবককে কেন্দ্র করে, যিনি পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য লন্ডন থেকে উত্তর ভারতে এসে ‘বধুসূর’ নামক এক ভয়ংকর প্রেতাত্মার অভিশাপের মুখে পড়েন। চিরাচরিত কমেডির পাশাপাশি এই প্রথম অক্ষয় ও প্রিয়দর্শন জুটিকে একটি গা ছমছমে ভৌতিক আবহে দেখা গেছে, যা গল্পের রহস্য ও উত্তজনা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

অভিনয়ের ক্ষেত্রে অক্ষয় কুমার তাঁর সহজাত কৌতুকবোধের পাশাপাশি চরিত্রের গম্ভীর ও অন্ধকার দিকগুলো চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে পরেশ রাওয়াল ও রাজপাল যাদবের সাথে তাঁর মিথস্ক্রিয়া দর্শকদের হাসির খোরাক যোগালেও, সিনেমার দ্বিতীয় ভাগের ভৌতিক দৃশ্যগুলো বেশ ভয়ংকর ও হাড়হিম করা। তাবু এবং ওয়ামিকা গাব্বির উপস্থিতি গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং আসরানির মতো বর্ষীয়ান অভিনেতার অন্তর্ভুক্তি দর্শকদের নস্টালজিক করে তোলে। সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফি এবং আবহ সঙ্গীত হরর পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের দীর্ঘ সময়কাল মাঝে মাঝে কিছুটা মন্থর মনে হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে ‘ভুত বাংলো’ একটি পয়সা উসুল সিনেমা যা দর্শকদের ভয় এবং আনন্দ দুটোই সমানভাবে প্রদান করে। কারিগরি দিক থেকে সিনেমাটি বেশ শক্তিশালী এবং রহস্যের উন্মোচনগুলো আগে থেকে অনুমান করা কঠিন হওয়ায় এটি একটি টানটান থ্রিলার হিসেবেও সার্থকতা পেয়েছে। যারা ভৌতিক রহস্যের সাথে ভরপুর কমেডি পছন্দ করেন, তাদের জন্য প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে এই সিনেমাটি দেখা একটি তৃপ্তিদায়ক অভিজ্ঞতা হবে। অক্ষয়-প্রিয়দর্শন জুটির এই নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফল হওয়ার মাধ্যমে বলিউড হরর-কমেডি ঘরানায় এক নতুন মানদণ্ড তৈরি হয়েছে।