জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে প্রশ্ন নতুন কিছু নয়। বিচারপ্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। এ অবস্থায় প্রয়োজন পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা। মূল্যায়নের স্পষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ এবং বাইরের প্রভাব ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা জরুরি।
সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র বাছাই নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ শোনা যায়। এগুলো দূর করতে স্বচ্ছ ও যোগ্যতাভিত্তিক কমিটি গঠন, অনলাইন স্কোরিং ব্যবস্থা চালু এবং চূড়ান্ত ফলাফলের বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা যেতে পারে। এতে প্রকৃত মেধাবীরা সামনে আসার সুযোগ পাবেন।
দেশে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা কমে যাওয়া আরেকটি বড় সংকট। মাঝেমধ্যে হল বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও বাস্তব অগ্রগতি চোখে পড়ে না। সারা দেশে নতুন প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ এবং বন্ধ বা জরাজীর্ণ হল সংস্কারে স্বল্পসুদে ঋণ, করছাড় ও পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা যেতে পারে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স স্থাপনেও উদ্যোগ নেওয়া দরকার। যেসব জেলায় হল নেই, সেখানে স্বল্প আসনের ডিজিটাল মিনি প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করলে ব্যয় কমবে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তারা যুক্ত হতে পারবেন।
নতুন হল নির্মাণে ভ্যাট ও কর ছাড়, জমি লিজে বিশেষ সুবিধা এবং প্রজেকশন ও সাউন্ড যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক কমানো বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রজেকশন, উন্নত সাউন্ড সিস্টেম ও অনলাইন টিকিটিং চালু করলে দর্শকের অভিজ্ঞতা উন্নত হবে। দেশীয় চলচ্চিত্রের নির্দিষ্ট প্রদর্শন কোটা, উৎসবভিত্তিক বিশেষ শো এবং পরিবারবান্ধব কনটেন্টে সহায়তাও দর্শক টানতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রেক্ষাগৃহকে শুধু সিনেমা দেখার জায়গা না ভেবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে নিয়মিত চলচ্চিত্র উৎসব ও বিভিন্ন আয়োজন থাকবে।
সবশেষে, চলচ্চিত্র শিল্পে ঝামেলামুক্ত, পেশাদার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।