নিজের অভিনয়ের চেয়ে শরীরের গঠন নিয়েই বেশি আলোচনা হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী অঞ্জলি। তার অভিযোগ, সমাজ এখনও একজন নারীর কাজ বা প্রতিভার আগে তার ওজনকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তবে এসব ধারণা বদলে দিতে তিনি কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অঞ্জলি বলেন, ‘সমাজ এখনও এমনই। মানুষ এখনও আমার কাজের আগে ওজনটাই দেখে। যত দিন এমনটা চলবে, তত দিন আমি কাজ করে যাব, যাতে প্রমাণ করতে পারি- এই ধারণাটা ভুল।’
অভিনেত্রীর মতে, প্রচলিত নায়িকার সৌন্দর্যের মানদণ্ডের বাইরে থাকা নারীদের জন্য অর্থবহ ও শক্তিশালী চরিত্র লেখার ক্ষেত্রে এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি মনে করেন, নির্মাতাদের এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
অঞ্জলি বলেন, ‘নারীদের জন্য আরও ভালো চরিত্র লেখার ক্ষেত্রে এখনও অনেক কিছু করার বাকি। আমি সেটাই বদলাতে চাই। মানুষ আমাকে যত বেশি দেখবে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও তত বদলাবে। তখন তারা বুঝবে, একজন অভিনেত্রীর শরীর নয়, তার অভিনয় দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে চরিত্র লেখা সম্ভব।’
শুধু ওজন নয়, মানুষের চেহারা, গায়ের রং, পোশাক কিংবা ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য নিয়েও সমাজে বিদ্রূপ ও সমালোচনা করা হয় বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, ‘কেউ মোটা হওয়ার জন্য, কেউ রোগা হওয়ার জন্য সমালোচিত হয়। গায়ের রং, মাথায় চুল না থাকা, চেহারা, পোশাক বা কোন ব্র্যান্ডের পোশাক পরছে-এসব নিয়েও মানুষকে হেয় করা হয়। হয়তো এমন সময় কোনো দিনই আসবে না, যখন এসব পুরোপুরি বন্ধ হবে। তবে আমরা অন্তত এসব বিষয়কে ভিন্নভাবে তুলে ধরে মানুষকে নতুনভাবে ভাবতে শেখাতে পারি।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে হওয়া ট্রল ও সমালোচনা প্রসঙ্গে অঞ্জলি জানান, তিনি এসবকে খুব বেশি গুরুত্ব দেন না। কারণ শুরু থেকেই তিনি জানতেন, জনপরিচিত একজন মানুষ হিসেবে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে।
অঞ্জলি বলেন, ‘আমরা জানতাম ট্রলিং হবে। তাই আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম এবং বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিইনি। নিন্দুকদের যত বেশি গুরুত্ব দেবেন, তারা তত বেশি নিন্দা করবে। গুরুত্ব না দিলেই ভালো।’
অভিনেত্রীর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার আত্মবিশ্বাস এবং শরীর নিয়ে প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।