‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে না থাকার কারণে আপনি কত টাকা হারাচ্ছেন, জানেন?’ ম্যানেজার ও এজেন্টদের কাছ থেকে এমন প্রশ্ন প্রায়ই শুনতে হয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীকে। তবে আর্থিক ক্ষতির কথা জানলেও ইনস্টাগ্রামে ফেরার কোনো ইচ্ছা নেই তাঁর। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকার পর মানসিকভাবে অনেক বেশি শান্তিতে আছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইনস্টাগ্রাম ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। তখন জানিয়েছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ধীরে ধীরে তাঁর জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল। কাজ থেকে মনোযোগ সরে যাচ্ছিল, এমনকি জীবনের ছোট ছোট আনন্দও কমে যাচ্ছিল।

প্রায় এক বছর পরও নিজের সেই সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনস্টাগ্রাম ছাড়ার কারণ ও এর প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

ইনস্টাগ্রাম ছাড়ার পেছনে একাধিক কারণ ছিল বলে জানান ঐশ্বরিয়া। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন কনটেন্ট এবং অশালীনভাবে ছবি সম্পাদনার প্রবণতা তাঁকে বিরক্ত করত।

অভিনেত্রীর ভাষায়, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সারাক্ষণ থাকা এবং সেখানে নিজেকে উপস্থাপন না করার কারণে আমি একজন মানুষ হিসেবে অনেকটা স্বস্তি পেয়েছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়া আমি অনেক বেশি সুখী।”

তাঁর এজেন্ট ও ব্যবস্থাপকেরা অবশ্য তাঁকে আবার ইনস্টাগ্রামে ফেরার পরামর্শ দেন। তাদের যুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় না থাকায় আর্থিকভাবে ক্ষতি হচ্ছে। তবে ঐশ্বরিয়ার কাছে সেই ক্ষতির চেয়ে মানসিক শান্তির মূল্য বেশি।

তিনি বলেন, “আমি তাঁদের বলি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থেকে যে মানসিক শান্তি পেয়েছি, তার মূল্য অনেক বেশি।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় না থাকার কারণে কিছু কাজের সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে, সেটি মেনে নিয়েছেন ঐশ্বরিয়া। তবে বিষয়টি নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপ নেই।

“আমি নিশ্চিত, সব সময় অনলাইনে সক্রিয় না থাকার কারণে কয়েকটি সুযোগ হয়তো হাতছাড়া হবে। কিন্তু সেটি ঠিক আছে,” বলেন তিনি।

অভিনেত্রীর মতে, তাঁকে কাজের জন্যই বেছে নেওয়া উচিত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতটা সক্রিয় তার ভিত্তিতে নয়।

“আমি চাই, আমার চলচ্চিত্রই আমার হয়ে কথা বলুক। আমি আট বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে আছি। পরিচালকেরা জানেন আমি কী করতে পারি। তাঁরা আমার শক্তি ও দুর্বলতাও জানেন,” বলেন ঐশ্বরিয়া।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়ার পর বাস্তব জীবনে মানুষের সঙ্গে মেলামেশার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে বলে জানান অভিনেত্রী।

আগে নিয়মিত মন্তব্য ও ব্যক্তিগত বার্তা পড়তেন তিনি। সেগুলো পড়তে পড়তে একসময় তাঁর মনে হতো, সবাই যেন তাঁর বিরুদ্ধে।

ঐশ্বরিয়া বলেন, “এখন যখন মানুষের সঙ্গে দেখা করি, তখন মনে হয় না যে কেউ আমার বিরুদ্ধে। মনে হয় না, পুরো পৃথিবী আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আপনাকে এমন একটা অনুভূতি দিতে পারে। এটি খুব নিষ্ঠুর ও বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকলেও ভক্তদের ভালোবাসা ঠিকই পাচ্ছেন ঐশ্বরিয়া। বরং কখনো কখনো সেই ভালোবাসা আরও ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

মালয়েশিয়ার এক ভক্তের কথা উল্লেখ করে অভিনেত্রী জানান, ওই ভক্ত একটি শাড়ি কিনে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেটি তাঁর কাছে পাঠিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিল হাতে লেখা দীর্ঘ একটি চিঠি।

চিঠিটি পড়ে আপ্লুত হন ঐশ্বরিয়া। একবার নয়, বারবার সেটি পড়েছেন তিনি। পরে নিজেও ওই ভক্তকে চিঠির উত্তর দিয়েছেন।

অভিনেত্রীর কথায়, “মানুষ যদি সত্যিই আপনার কাছে পৌঁছাতে চায়, তাহলে তারা কোনো না কোনোভাবে পথ খুঁজে নেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চেয়ে এটি আমার কাছে অনেক বেশি অর্থবহ।”

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সক্রিয় না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোপুরি ছেড়ে দেননি ঐশ্বরিয়া। তাঁর পোষা কুকুরের একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং কয়েকটি পেজও অনুসরণ করেন। তবে নিজের কাজের প্রচারের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এখন আর অপরিহার্য মনে করেন না তিনি।