রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘ছয় দশক পেরিয়ে তৌকীর আহমেদ’ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, তৌকীর শুধু একজন অভিনেতা বা নির্মাতা নন তিনি একজন গভীর চিন্তাশীল ও বইপড়ুয়া মানুষ। তার সঙ্গে আড্ডা মানেই যেন নতুন কিছু শেখা।
আবুল হায়াত বলেন, একজন প্রকৃত সৃজনশীল মানুষের জন্য শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুধু প্রথাগত শিক্ষা নয়, নানা ধরনের জ্ঞানচর্চা। এই জায়গায় তৌকীরের প্রতি তার গভীর মুগ্ধতা রয়েছে। তিনি জানান, তৌকীর যেখানে যান, সেখান থেকেই বই কিনে আনেন এটা তার অভ্যাস।
নিজের মেয়ে বিপাশা হায়াত সম্পর্কেও একই কথা বলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই বিপাশার পড়ার প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল কোরআন, বেদ, বাইবেল সবই তিনি অল্প বয়সেই পড়ে ফেলেছিলেন। এখনো বই পড়া তার নেশার মতো।
এই দুই বইপাগল মানুষের একত্র হওয়া নিয়েই রসিকতা করে আবুল হায়াত বলেন, “তৌকীর আমাকে সবচেয়ে বেশি কাঁদিয়েছে।” তবে এই কান্না কষ্টের নয়, বরং মেয়েকে বিদায় দেওয়ার আবেগের। তিনি মজার ছলে তৌকীরকে “ভিলেন” বলেও অভিহিত করেন, কারণ বিয়ের সময় মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে তিনি ভীষণ কেঁদেছিলেন।
জামাতা হিসেবে তৌকীরের প্রশংসাও করেন তিনি। বিশেষ করে শাশুড়ির প্রতি তার আচরণ নিয়ে হাস্যরস করে বলেন যা খেতে দেওয়া হয়, বিনা আপত্তিতে খেয়ে নেন, এমনকি অতিরিক্ত ইলিশ মাছও!
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে বিয়ে করেন তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াত। বর্তমানে তৌকীর নির্মাণে বেশি সক্রিয়, আর আবুল হায়াতও নির্মাণ ও অভিনয় দুই ক্ষেত্রেই ব্যস্ত সময় পার করছেন।