স্ত্রী আফরা ইভনাত ইকরার আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে আলভীর ঘনিষ্ঠতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন পোস্ট ইকরার মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে উঠেছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইকরা মৃত্যুর আগে একাধিক বার্তায় তিথির নাম উল্লেখ করেছিলেন। পাশাপাশি আলভীর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টও আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আলভী ও ইকরার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং পারিবারিক নানা জটিলতা ইকরার জীবনে প্রভাব ফেলেছিল। শুনানিতে তারা দাবি করেন, আলভীর সঙ্গে বিয়ের পর ইকরার পরিবার তার অমতে অন্যত্র বিয়ের ব্যবস্থা করেছিল। এ বিষয়ে ইকরার একটি হলফনামাও আদালতে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে তিনি নিজের পরিবারকে ‘টক্সিক’ উল্লেখ করে স্বেচ্ছায় আলভীর কাছে ফিরে যেতে চাওয়ার কথা বলেছিলেন বলে দাবি করা হয়।
শুনানির এক পর্যায়ে ইকরার ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং জীবনযাপন নিয়ে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। আদালতকক্ষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিচারক উভয় পক্ষকে সংযত থাকার নির্দেশ দেন এবং সীমিত সংখ্যক আইনজীবীকে বক্তব্য উপস্থাপনের অনুমতি দেন।
নিজের বক্তব্যে জাহের আলভী আদালতকে জানান, তিনি ও ইকরা পরিণত বয়সে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন এবং তাদের সম্পর্কে স্বাভাবিক দাম্পত্য খুনসুটি থাকলেও আত্মহত্যার মতো কোনো পরিস্থিতি ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অভিনেত্রী তিথিকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া একটি আলোচিত ছবিকে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে উল্লেখ করেন।
আলভী আরও বলেন, নেপালে তার সফর ছিল নাটকের শুটিংয়ের কাজে, ব্যক্তিগত উদযাপনের জন্য নয়। তিনি আদালতের কাছে জামিন প্রার্থনা করে বলেন, তার সন্তান মাকে হারিয়েছে এবং এই সময়ে বাবার প্রয়োজন রয়েছে।
দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত জাহের আলভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে তাকে হাজতখানায় নেওয়া হয়। এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী গণমাধ্যমকে জানান, আসামিপক্ষ বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করছে এবং তদন্তের মাধ্যমে মামলার আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে তারা আশা করছেন।