ইয়ামি গৌতমের বলিউড যাত্রা শুরু হয়েছিল হালকা-স্বাদের রোমান্টিক কমেডি দিয়ে। সময়ের সঙ্গে তিনি নিজের খোলস বদলেছেন, বিস্তৃত করেছেন চরিত্রের পরিসর। এখন তাকে ভাবা হয় ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম বহুমাত্রিক অভিনেত্রী হিসেবে। পরপর চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেছেন, তার ভেতর আরও অনেক স্তর আছে খুঁজে দেখার মতো। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত শাহ বানো মামলা অবলম্বনে নির্মিত ‘হক্‌’ ছবিতে তার অভিনয় আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

জন্মদিনের দিনে শুভেচ্ছায় ভেসে গেলেও ইয়ামি আলোচনায় এসেছেন আরেক কারণে অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান নিয়ে তার সোজাসাপ্টা মন্তব্য। ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, ‘হক্‌’-এর সফলতার পর তিনি নাকি নতুন চারটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে নিজের মুখ বন্ধ রেখেই তিনি দায়িত্ব দিলেন প্রযোজকদের। বললেন, ঘোষণার কাজ তাদের।

দর্শকের ভালোবাসা নিয়ে তিনি দ্বিধাহীন। অনেকের মতে, ‘হক্‌’ জাতীয় পুরস্কার পাবে। প্রশ্নটা উঠতেই ইয়ামি হালকা রসিকতা করলেন, উত্তর দিলে কী কী শিরোনাম বেরোতে পারে, সেটাই নাকি আগে মাথায় আসে। তিনি বললেন, এখন খুব সাবধানে কথা বলেন, যাতে ভুল ব্যাখ্যা না হয়।

তার কথায়, দর্শকের প্রতিক্রিয়াই তার কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার। যারা তাকে বিশ্বাস করে কাজ দিয়েছেন, তারা না থাকলে তিনি আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পারতেন না।

তাকে সচরাচর পুরস্কার বিতরণী বা পার্টিতে দেখা যায় না। কেন? এই প্রশ্নে ইয়ামি সরাসরি বলেন, এমন অনুষ্ঠানে যাওয়া সত্যিই অনেকের কাজ পেতে সাহায্য করে। কিন্তু তিনি সেই পরিবেশের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পান না। তিনি কাউকে গিয়ে সুযোগ চাইতে পারবেন না। বরং কাজ এবং চিত্রনাট্যই তার পথ খুলে দিক এই বিশ্বাসেই এগোন তিনি।

২০১৯ সালের ‘উরি’ তার এ পথচলার বড় উদাহরণ।

অ্যাওয়ার্ড নিয়ে তার মত আরও স্পষ্ট। বর্তমানে এসব আয়োজন যেভাবে চলে, তা দেখে তার মনে হয় এগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার মতো কিছু নেই। তবে তিনি কাউকে নিরুৎসাহও করেন না। কারও যদি অ্যাওয়ার্ডে পরিপূর্ণতা আসে, সেটা তার পথ। আর কেউ যদি নিজের যাত্রা নিজেই গড়ে নিতে চায়, সেটাও ঠিক। ইয়ামি নিজে দ্বিতীয় পথটিকেই বেছে নিয়েছেন।

২০১২ সালে ‘ভিকি ডোনার’ দিয়ে বলিউডে তার আনুষ্ঠানিক সূচনা। এর আগে ২০১০ সালে তিনি কন্নড়, পাঞ্জাবি এবং তেলুগু ছবিতে অভিনয় করে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন।

‘বাদলাপুর’, ‘সানাম রে’, ‘কাবিল’, ‘এ থার্সডে’, ‘ওএমজি ২’, ‘আর্টিকল ৩৭০’, ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ এমন আরও বহু ছবিতে তার উপস্থিতি প্রমাণ করে, ইয়ামি আর আগের সেই রোমান্টিক-কমেডির গণ্ডিতে আটকে নেই। তিনি নিজের পথ নিজেই তৈরি করছেন, নিজের ছন্দে।