তামিল সুপারস্টার বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবনের সাম্প্রতিক ঝড় তার নবগঠিত রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্ত্রী সঙ্গীতা স্বর্ণলিঙ্গমের বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জনসমক্ষে আসার পর থেকেই বিজয়কে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। রুপালি পর্দার এই 'আদর্শবাদী নায়ক' ও 'ফ্যামিলি ম্যান' ইমেজ ব্যবহার করে বিজয় যে রাজনৈতিক ভিত্তি গড়তে চেয়েছিলেন, এই বিচ্ছেদ সেই পথে বড় বাধা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর রক্ষণশীল ও বয়স্ক ভোটারদের কাছে পারিবারিক মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, তার এই 'নিখুঁত পারিবারিক ইমেজ' সংকটের মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের রাজনৈতিক দল 'তামিলাগা ভেট্টি কাঝাগাম' মূলত তার স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছিল। সিনেমার পর্দায় তাকে সামাজিক ন্যায়বিচার ও নারী অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হতে দেখা গেলেও, ব্যক্তিগত জীবনের এই টানাপোড়েন ভোটারদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যদি এই বিচ্ছেদের পেছনে কোনো অনৈতিক অভিযোগ সামনে আসে, তবে তার কট্টর সমর্থকদের আস্থায় চিড় ধরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর বিপরীতে রাজ্যের তরুণ প্রজন্ম বা 'জেন-জি' ভোটাররা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তারা ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে বিজয়ের রাজনৈতিক আদর্শ, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং তামিল জাতীয়তাবাদকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এম জি রামচন্দ্রন বা জয়ললিতার মতো মহাতারকারাও ব্যক্তিগত ও আইনি সংকটের মুখোমুখি হয়েছিলেন, কিন্তু তারা সেসব কাটিয়ে রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হন। এখন দেখার বিষয় হলো, পর্দার 'থালাপতি' বাস্তব জীবনের এই নাটকীয়তা সামলে নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য কতটা অটুট রাখতে পারেন। আগামী কয়েক মাস বিজয়ের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত উভয় ক্যারিয়ারের জন্যই অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।