মাত্র ৩০ বছর বয়সেই বড় এক ইতিহাস গড়লেন টম হল্যান্ড। সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা অভিনেতাদের তালিকায় এবার শীর্ষস্থান দখল করেছেন এই ব্রিটিশ তারকা। কয়েক দশক ধরে যেখানে ৪০ বছরের বেশি বয়সী হলিউড তারকারাই এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন, সেখানে একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘স্পাইডার-ম্যান’-এর সুবাদে সেই ধারায় পরিবর্তন আনলেন হল্যান্ড।
বিগত কয়েক বছর ধরে সর্বোচ্চ আয় করা অভিনেতার অবস্থান অনেকটা স্কারলেট জোহানসন, জোয়ে সালদানা ও ক্রিস প্র্যাটের মধ্যে ঘুরছিল। তিন তারকারই একাধিক সফল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে অভিনয় রয়েছে এবং সবাই মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের (MCU) সঙ্গে যুক্ত। এবার তাদের পেছনে ফেলে তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন তুলনামূলকভাবে তরুণ টম হল্যান্ড।
‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর ব্যাপক বক্স অফিস সাফল্যই হল্যান্ডকে এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। প্রধান চরিত্রে ২৪টি সিনেমায় অভিনয়ের পর তার সিনেমাগুলোর সম্মিলিত বিশ্বব্যাপী বক্স অফিস আয় দাঁড়িয়েছে ১৫.৫৫ বিলিয়ন ডলারে।
অথচ মাত্র দুই মাস আগেও এই তালিকায় সপ্তম স্থানে ছিলেন হল্যান্ড। তার ওপরে ছিলেন ক্রিস হেমসওয়ার্থ ও টম ক্রুজসহ আরও কয়েকজন তারকা। কিন্তু ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ থেকে ২.৪৫ বিলিয়ন ডলারের আয় যোগ হওয়ায় দ্রুত কয়েক ধাপ এগিয়ে শীর্ষে চলে আসেন তিনি।
হল্যান্ডের পর তালিকায় রয়েছেন জোয়ে সালদানা, ১৫.৪৭ বিলিয়ন ডলার; স্কারলেট জোহানসন, ১৫.৪০ বিলিয়ন ডলার; ক্রিস প্র্যাট, ১৫.১৫ বিলিয়ন ডলার এবং স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন, ১৪.৬ বিলিয়ন ডলার। শীর্ষ ১০-এ MCU তারকাদের আধিপত্যও স্পষ্ট।
তালিকায় রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের সিনেমাগুলোর সম্মিলিত আয় ১৪.৩ বিলিয়ন ডলার। ক্রিস হেমসওয়ার্থের ১২.১৯ বিলিয়ন, ভিন ডিজেলের ১২.০৪ বিলিয়ন এবং ক্রিস ইভান্সের ১১.৪৯ বিলিয়ন ডলার। শীর্ষ ১০-এ MCU-এর বাইরে থাকা একমাত্র অভিনেতা টম ক্রুজ। তার অভিনীত ৪৫টি সিনেমা বিশ্বব্যাপী ১৩.৩৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এর মধ্যে ‘মিশন: ইম্পসিবল’ সিরিজ থেকে এসেছে ৪.৭৪ বিলিয়ন ডলার এবং দুটি ‘টপ গান’ সিনেমা থেকে ১.৯ বিলিয়ন ডলার।
যেভাবে শীর্ষে উঠলেন টম হল্যান্ড
টম হল্যান্ডের অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু মাত্র ১১ বছর বয়সে, মঞ্চে অভিনয়ের মাধ্যমে। চার বছর পর ‘দ্য ইম্পসিবল’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর ‘হাও আই লিভ নাউ’, ‘লক’ এবং ‘বিলি এলিয়ট দ্য মিউজিক্যাল লাইভ’-এর মতো কাজে অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি।
প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে তার প্রথম বড় ভূমিকাগুলোর একটি ছিল ‘ইন দ্য হার্ট অব দ্য সি’। সিনেমাটিতে ক্রিস হেমসওয়ার্থের সঙ্গে অভিনয় করেন হল্যান্ড।
২০১৫ সালের জুনে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সুযোগ পান তিনি। মার্ভেল স্টুডিওসের সঙ্গে ছয়টি সিনেমার চুক্তি করেন হল্যান্ড। সনি প্রযোজিত এবং MCU-এর অংশ হিসেবে নির্মিত নতুন ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিরিজে পিটার পার্কার চরিত্রে তাকে বেছে নেওয়া হয়।
‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’-এর মাধ্যমে MCU-তে অভিষেকের পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি হল্যান্ডকে। এরপর চারটি একক ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমাগুলো সম্মিলিতভাবে ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। এর পাশাপাশি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ এবং ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমাও তার মোট বক্স অফিস আয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
MCU-এর বাইরেও ‘আনচার্টেড’ ও ‘দ্য ওডিসি’র মতো সফল সিনেমায় অভিনয় করেছেন হল্যান্ড। ২০২৬ সালে তার অভিনীত দুটি সিনেমা এখন পর্যন্ত ৪.১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে।
চলতি বছরের শেষ দিকে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সিনেমাটি মুক্তির পর টম হল্যান্ডের মোট বক্স অফিস আয়ের অঙ্ক আরও বাড়তে পারে।