তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আবহে চেন্নাইয়ের এক বিশাল জনসভায় প্রতিপক্ষ শিবিরকে তুলোধোনা করলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়। তার নবগঠিত দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে)-এর এই সমাবেশে বিজয় স্পষ্ট করে দেন যে, তাকে কেবল ‘অভিনেতা’ বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার সুযোগ আর নেই। এক মন্ত্রীর কটাক্ষের জবাবে বিজয় পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, “হ্যাঁ, আমি একজন অভিনেতা। কিন্তু আমি রাজনীতিতে অভিনয় করছি না। বরং আপনারা রাজনীতির নামে যে নাটক করছেন, তাতে কি আপনাদের অভিনেতা-অভিনেত্রী বলে ডাকা উচিত নয়?”
গত বছর করুরে টিভিকে-র র্যালিতে পদপিষ্ট হয়ে ৪০ জনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিজয়কে দায়ী করার প্রচেষ্টাকেও তিনি কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের অনুমতি নিয়েই সেই কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল এবং সবকিছুই ছিল স্বচ্ছ। অহেতুক দোষারোপ করার আগে বিরোধীদের বিবেক থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিজয়ের এই ঝাঁঝালো বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেললেও, নেটিজেনদের একাংশ তার প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
রাজনৈতিক ময়দানে বিজয় যখন জমি শক্ত করতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। তার শেষ সিনেমা হিসেবে পরিচিত ‘জন নায়ক’ সেন্সর বোর্ডের আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে। এর মধ্যেই গত ৯ এপ্রিল পুরো সিনেমাটি অনলাইনে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন প্রযোজকরা। ক্যারিয়ারের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে বিজয় এখন ২৩৪টি আসনেই লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে রাজনীতির মূল স্রোতে নিজের আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া।