নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া শাড়ি সংক্রান্ত প্রতারণার মামলার বিষয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। কয়েকদিন নীরব থাকার পর সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই এতদিন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
তিশা জানান, তিনি দীর্ঘ ১২ থেকে ১৪ বছর ধরে বিনোদন অঙ্গনে কাজ করছেন এবং এই সময়ের মধ্যে নিজের অবস্থান ও সুনাম ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তার ভাষায়, ভালো-মন্দ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই তিনি ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন এবং নিজের কাজের জায়গা ধরে রেখেছেন।
মামলাটির পেছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, নতুন একটি সিনেমার শুটিং শুরু করার পরদিনই তিনি একটি আইনি নোটিশ পান। এরপর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টিকে তিনি এমনভাবে দেখছেন যে, কেউ যখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন কিছু মানুষ তাকে পেছনে টেনে ধরার চেষ্টা করে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি তাকে ঠিক সেই অনুভূতিই দিচ্ছে।
অভিনেত্রী আরও বলেন, মাত্র ২৭ হাজার টাকার একটি শাড়ির জন্য তিনি নিজের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ক্যারিয়ার ও সুনাম ঝুঁকির মুখে ফেলবেন, এমন অভিযোগ তার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, একটি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে একজন নারীর জন্য দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সহজ নয়। সেই অবস্থানে পৌঁছানোর পর এত সামান্য অর্থের জন্য নিজের ভাবমূর্তি নষ্ট করার কোনো কারণ তিনি দেখেন না।
উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অনলাইনভিত্তিক ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। অভিযোগে বলা হয়, তিনি শাড়িটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ ঘটনায় পেজটির প্রশাসক আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তিশা তার বিরুদ্ধে আনা দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।