চলচ্চিত্রের গ্ল্যামারাস দুনিয়ায় প্রথম সারির অভিনেত্রীদের ক্যারিয়ার যেমন আলোঝলমলে, ঠিক তেমনি এর পেছনে লুকিয়ে থাকে কিছু অস্বস্তিকর আর তেতো বাস্তব। সম্প্রতি দক্ষিণি চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে নারী শিল্পীদের প্রতিদিনের এমনই কিছু মানসিক লড়াই ও তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া। ৩৬ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর মতে, দক্ষিণি সিনেমা জগতে কাজ করতে গিয়ে নারী শিল্পীদের প্রায়শই এক ধরনের অদ্ভুত ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে তাঁদের দিকে আশেপাশের মানুষের তাকানোর দৃষ্টিভঙ্গি মোটেও স্বাভাবিক থাকে না। কর্মক্ষেত্রে বা সেটে অনেকেই একদৃষ্টে নারী সহকর্মীদের দিকে তাকিয়ে থাকেন, যা একজন নারীর জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তামান্না অবশ্য এই আচরণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে নির্দিষ্ট কাউকে দোষারোপ করতে রাজি নন। তাঁর মতে, এটি মূলত সমাজের দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা ও সামাজিক কাঠামোরই একটি নেতিবাচক প্রতিফলন। দক্ষিণ ভারতে নারী ও পুরুষের মধ্যকার সামাজিক মেলামেশা বা অবাধ যোগাযোগের পরিধি কিছুটা সীমিত হওয়ার কারণে, অনেকের মধ্যেই নারীদের প্রতি এক ধরনের অতি-কৌতূহলী ও অস্বস্তিকর দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করে। তবে এই বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির প্রতি নিজের গভীর কৃতজ্ঞতার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ক্যারিয়ার শুরু করে বিগত ২০ বছর ধরে তামিল, তেলুগু ও হিন্দি সিনেমায় দাপটের সাথে অভিনয় করা তামান্না জানান, এই দক্ষিণি ইন্ডাস্ট্রিই তাঁকে আজকের এই পরিচিতি, সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছে এবং এখানে তিনি বহু চমৎকার মানুষের সাথেও কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।
বর্তমানে কর্মক্ষেত্রের এই পরিবেশ ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই অভিনেত্রী। তামান্না মনে করেন, বর্তমান সময়ে অনেক নারী শিল্পীই নিজেদের ভালো-মন্দ অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন, যা আগে সমাজ বা ক্যারিয়ারের ভয়ে চেপে যাওয়া হতো। এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের নির্মাতা, অভিনেতা ও কলাকুশলীরা নারী সহকর্মীদের প্রতি আগের চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল ও সচেতন। কোনো ইন্ডাস্ট্রিই যে পুরোপুরি নিখুঁত নয়, তা মনে করিয়ে দিয়ে তামান্না স্পষ্ট করেন, কর্মক্ষেত্রে সবার জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরি করতে হলে শুধু চলচ্চিত্র জগত নয়, বরং সামগ্রিকভাবে পুরো সমাজের মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা জরুরি।