দুর্লভ ও আক্রমণাত্মক ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করে মারা গেছেন জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার সিডনি টাওল। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়। মৃত্যুকালে এই মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সারের বয়স হয়েছিল মাত্র ২৬ বছর।
পরিবার জানিয়েছে, প্রায় তিন বছর ধরে পিত্তনালির ক্যানসার বা কোলাঞ্জিওকারসিনোমার সঙ্গে লড়াই করছিলেন সিডনি। শেষ পর্যন্ত ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ায় নানা জটিলতা দেখা দেয়। এরই মধ্যে কয়েক দিন আগে তাঁকে হসপিস কেয়ারে নেওয়া হয়েছিল। নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসরত অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
টিকটকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সিডনির ভাই অস্টিন টাওল মায়ের উপস্থিতিতে জানান, প্রায় তিন বছর কোলাঞ্জিওকারসিনোমার সঙ্গে লড়াইয়ের পর সিডনি মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে আসে।
সিডনি টাওল শুধু নিজের চিকিৎসার খবরই প্রকাশ করতেন না, বরং ক্যানসারের সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই, কেমোথেরাপির অভিজ্ঞতা, আশা, আনন্দ, হতাশা ও সংগ্রামের নানা মুহূর্ত অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। টিকটকে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখের বেশি। ইনস্টাগ্রামেও তাঁকে অনুসরণ করতেন দুই লাখের বেশি মানুষ। নিজের অসুস্থতার অভিজ্ঞতা অকপটে তুলে ধরার মাধ্যমে অল্প সময়েই বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে সিডনির সাহসিকতার প্রশংসা করা হয়েছে। তাঁরা জানান, নিজের ক্যানসারযাত্রা এত মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া এবং দুর্লভ ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির যে উদ্যোগ সিডনি নিয়েছিলেন, তা নিয়ে পরিবার গর্বিত। মানুষকে নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন ও প্রয়োজন হলে সোচ্চার হওয়ার জন্য উৎসাহিত করাও তাঁর অন্যতম লক্ষ্য ছিল।
সিডনির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলোতে হাজারো অনুসারী শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি ক্যানসারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ লড়াই, সাহসিকতা ও অন্যদের অনুপ্রাণিত করার ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।