একসময় বলিউডের বাণিজ্যিক সিনেমার পরিচিত মুখ ছিলেন সোনাক্ষী সিনহা। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার কাজ বেছে নেওয়ার ধরণ। এখন আর বেশি সংখ্যক সিনেমায় অভিনয়ের চেয়ে চরিত্রের গভীরতা, অভিনয়ের সুযোগ এবং ব্যক্তিগত সন্তুষ্টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সোনাক্ষী বলেন, জীবনের এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন যেখানে তিনি শুধু নিজের ভালো লাগার জন্যই কাজ করেন। তার ভাষায়, যে কাজ তাকে আনন্দ দেয়, সেটিই তিনি করতে চান। এমনকি পছন্দের কোনো কাজ না এলেও নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি পুরোপুরি সন্তুষ্ট।
অভিনেত্রী জানান, এই পরিবর্তন একদিনে আসেনি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পেশাগত প্রয়োজন কিংবা অন্যদের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে এমন অনেক ছবিতে অভিনয় করেছেন, যেগুলো তার নিজের প্রথম পছন্দ ছিল না। তবে এখন সচেতনভাবেই এমন চরিত্র নির্বাচন করেন, যা তাকে একজন শিল্পী হিসেবে পরিপূর্ণতা দেয়।
সোনাক্ষীর ভাষায়, এটি সম্পূর্ণ সচেতন সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ক্যারিয়ারে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং কোনো কাজ নিয়েই তার অনুশোচনা নেই। তবে এখন তিনি কেবল সেই কাজগুলোই করতে চান, যেগুলো তাকে সত্যিকারের আনন্দ দেয়।
গত কয়েক বছরে তার চরিত্র নির্বাচনে এই পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে। ‘দাহাড়’-এ একজন পুলিশ কর্মকর্তা, ‘হীরামান্ডি’-তে এক তবায়েফ এবং সম্প্রতি অশ্বিনী আইয়ার তিওয়ারির নতুন ছবি ‘সিস্টেম’-এ একজন আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
নতুন ছবি ‘সিস্টেম’ নিয়েও দারুণ আশাবাদী সোনাক্ষী। তিনি বলেন, ছবিটি এমন একটি কাজ, যা নিয়ে গর্ব করা যায়। পরিচালক অশ্বিনী আইয়ার তিওয়ারি, অভিনেত্রী জ্যোতিকা এবং আশুতোষ গোয়ারিকরের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও ছিল অসাধারণ।
ছবিটির প্রচারণার সময় পরিচালক অশ্বিনী আইয়ার তিওয়ারি সোনাক্ষীকে ভারতের ‘মেরিল স্ট্রিপ’ ও ‘কেট উইন্সলেট’ বলে প্রশংসা করেন। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অভিনেত্রী মজা করে বলেন, এমন মন্তব্য শুনে তিনি পরিচালককে ফোন করে বলেছিলেন, এতে তার ওপর আরও বেশি দায়িত্ব ও চাপ বেড়ে গেল। তবে বিশ্বের দুই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর সঙ্গে তুলনা করা নিঃসন্দেহে তার জন্য বড় সম্মানের।