বলিউড সুপারস্টার সালমান খান পর্দায় যেমন ‘ভাইজান’, বাস্তব জীবনেও তার মানবিকতার গল্প ভক্তদের বারবার মুগ্ধ করে। ২০০৭ সাল থেকে তার প্রতিষ্ঠিত Being Human Foundation এর মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের চিকিৎসা ও শিক্ষার দায়িত্ব নিয়ে আসছেন তিনি। এবার কর্ণাটকের রীনা রাজু নামের এক নারী শোনালেন এই তারকার মানবিকতার এক হৃদয়ছোঁয়া অভিজ্ঞতা।

রীনা জানান, প্রথমবার হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টের সময় তিনি ভয়াবহ মানসিক ও শারীরিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় সাহস জোগাতে তিনি সালমান খানকে একটি মেসেজ পাঠান। অবাক করার মতো বিষয় হলো, অস্ট্রেলিয়ায় শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকলেও সেই রাতেই তাকে ফোন করেন এই অভিনেতা। রীনার ভাষ্য অনুযায়ী, সালমান টানা দুই ঘণ্টা তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাকে মানসিকভাবে শক্ত থাকার অনুপ্রেরণা দেন।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার হার্ট প্রতিস্থাপনের পর মুম্বাইয়ে সালমান খানের বাড়িতে সরাসরি দেখা করার সুযোগ হয় রীনার। সেখানে শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং অনেকটা সময় ধরে তার খোঁজখবর নেন অভিনেতা। এমনকি রীনার শরীরচর্চার জন্য ‘বিইং হিউম্যান’ ব্র্যান্ডের একটি সাদা সাইকেল উপহার দেন তিনি যা রীনা অনেক আগেই একটি বার্তায় চেয়েছিলেন, আর সেই কথাও মনে রেখেছিলেন সালমান।

শুধু তাই নয়, অসুস্থতার মধ্যেও রীনার মন ভালো রাখতে তাকে রেস ৩ সিনেমার শুটিং সেটে আমন্ত্রণ জানান সালমান। সেখানে পুরো একটি দিন একসঙ্গে কাটান তারা। রীনার মতে, সালমান খানের ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত দয়ালু এবং সবসময়ই তিনি তার প্রতি সুরক্ষামূলক আচরণ করেছেন।

বর্তমানে রীনা নিজেও ‘লাইট আ লাইফ’ নামে একটি ফাউন্ডেশন পরিচালনা করছেন। তিনি জানান, এখনো যখনই কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়েন, সালমান তাকে নিয়মিত মেসেজে সাহস জোগান। রীনার ভাষায়, “সালমান খান সত্যিই একজন দুর্লভ মানুষ।”