শুরু থেকেই নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরতে চেয়েছেন সাই মাঞ্জরেকার। ২০১৯ সালে ‘দাবাং থ্রি’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক, বিপরীতে ছিলেন সালমান খান। এরপর একের পর এক বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন অভিনেতা-পরিচালক মহেশ মাঞ্জরেকারের কন্যা। এবার তাঁকে দেখা যাবে পিরিয়ড ড্রামা ‘দ্য ইন্ডিয়া হাউস’-এ।

প্রথম আলোসহ কয়েকটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাই বলেন, ‘“দ্য ইন্ডিয়া হাউস” আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গভীর কাজ।’ দক্ষিণের তারকা রামচরণের প্রযোজনায় ছবিটি একই সঙ্গে হিন্দি ও তেলেগু ভাষায় নির্মিত হচ্ছে। ‘মেজর’-এর পর এটি তাঁর দ্বিতীয় দ্বিভাষিক ছবি। একই সঙ্গে দুই ভাষায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে সাই জানান, ‘রোমাঞ্চকর তো বটেই, সঙ্গে বড় চ্যালেঞ্জও। একই দিনে আবেগ, ভাষা আর সাংস্কৃতিক ভিন্নতা সামলাতে হয়েছে।’

এর আগেও হিন্দি ও তেলেগু ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। সাই বলেন, ‘“মেজর”-এ কাজ করায় বিষয়টি পুরোপুরি নতুন ছিল না। তবু প্রতিটি ছবি কিছু না কিছু শেখায়।’ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবিতে তাঁর চরিত্রের নাম ‘সতী’। চরিত্রটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘সেই সময়ের মানুষদের শক্তি, দুর্বলতা আর নীরব দৃঢ়তাকে বুঝে নেওয়াটাই ছিল সবচেয়ে জরুরি।’

প্যান-ইন্ডিয়া প্রজেক্টে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও উচ্ছ্বসিত সাই। তাঁর ভাষায়, ‘এ ধরনের ছবিতে সিনেমাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভাষা। ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি থেকে আসা মানুষ একসঙ্গে কাজ করে শুধু গল্পকে ভালোভাবে বলার জন্য।’ সহশিল্পী নিখিল সিদ্ধার্থ, পরিচালক বামসি ও পুরো টিমের প্রশংসাও করেন তিনি।

নিজের ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে সাই জানান, ‘মেজর’, ‘অরো মে কহাঁ দম থা’ ও ‘স্কন্দা’র মতো ছবিতে কাজ করে অনেকটা পথ এগিয়েছেন তিনি। প্রিয় তারকাদের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই শাহরুখ স্যার আর সালমান স্যারকে খুব ভালোবাসতাম। অক্ষয় কুমারের কমেডি ছবি দেখেই বড় হয়েছি।’ শৈশবের নায়িকাদের স্মরণ করে যোগ করেন, ‘সোনালি বেন্দ্রের সৌন্দর্যে আমি মুগ্ধ ছিলাম। রানী মুখার্জি আর কাজলকে নিয়ে তখন আলাদা আবেগ ছিল।’

সালমান খানের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার স্মৃতিও আজও তাঁর কাছে স্পষ্ট। সাই বলেন, ‘তখন আমার বয়স তিন-চার। টিভিতে “জুড়ওয়া” খুব দেখতাম। দুবাইয়ে একদিন লিফটে হঠাৎ সালমান স্যারকে দেখে শুধু মনে হয়েছিল, ওহ মাই গড!’ সালমানের আদর আর একবার ফ্লাইটে তিরামিসু খাওয়ানোর ঘটনাও আজও মনে আছে তাঁর।

শৈশবের সেই বিস্ময় আর মুগ্ধতাই সময়ের সঙ্গে বাস্তবে রূপ নেয়। যে মানুষটিকে ছোট বয়সে লিফটে দেখে অবাক হয়েছিল সাই, কয়েক বছর পর সেই সালমান খানেরই বিপরীতে দাঁড়িয়ে অভিনয় করেন ‘দাবাং থ্রি’-তে। সেই স্মৃতির বৃত্ত পূর্ণ করেই আজ বলিউড ও দক্ষিণ দুই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করার পথে এগিয়ে চলেছেন সাই মাঞ্জরেকার।