ভারতীয় অভিনেত্রী সাই পল্লবীকে নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ’। ছবিটিতে সীতার চরিত্রে তার অভিনয়কে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে দর্শকদের একটি বড় অংশ তার অভিনয় দক্ষতা, স্বাভাবিক সৌন্দর্য এবং পর্দায় উপস্থিতির প্রশংসা করছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, ধর্মীয় গ্রন্থে বর্ণিত সীতার রূপের সঙ্গে তার চেহারার পুরোপুরি মিল নেই।

ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই এই বিতর্ক সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের মতে, সাই পল্লবীর সরলতা, মেকআপনির্ভর নয় এমন ব্যক্তিত্ব এবং আবেগ প্রকাশের দক্ষতা তাকে সীতার চরিত্রের জন্য যথাযথ করে তুলেছে। তবে সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, পৌরাণিক চরিত্রটির প্রচলিত সৌন্দর্যবোধের সঙ্গে তাকে মানানসই মনে হচ্ছে না। এর বিপরীতে অসংখ্য দর্শক যুক্তি দিচ্ছেন, একটি চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলতে বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে অভিনয়শক্তি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে ভাইরাল হয়েছে সাই পল্লবীর দ্য হিন্দুকে দেওয়া একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি নিজের ত্বকের সমস্যা, ব্রণ, রোসেসিয়া এবং আত্মবিশ্বাস হারানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছিলেন। অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্রে আসার আগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্রণের সমস্যায় ভুগেছেন এবং নিজের চেহারা নিয়ে এতটাই অস্বস্তিতে ছিলেন যে অনেক সময় বাড়ির বাইরে যেতেও অনীহা বোধ করতেন। তিনি জানান, বিভিন্ন ধরনের ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি এবং একসময় মনে হতো মানুষ তার ব্যক্তিত্ব নয়, শুধুই তার ত্বকের সমস্যার দিকে নজর দেয়।

সাই পল্লবীর মতে, ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মালয়ালম চলচ্চিত্র ‘প্রেমাম’ তার জীবন বদলে দেয়। ছবিটির মাধ্যমে দর্শক তাকে ঠিক যেমন ছিলেন, সেভাবেই গ্রহণ করেন। সেই অভিজ্ঞতা তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং উপলব্ধি করায় যে প্রকৃত সৌন্দর্য আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বের মধ্যেই নিহিত। তিনি বিশ্বাস করেন, দর্শকদের ভালোবাসাই তাকে নিজের মতো করে বাঁচার সাহস দিয়েছে এবং একই ধরনের অনিরাপত্তায় ভোগা অনেক তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

একই সাক্ষাৎকারে অভিনয়জীবনের শুরু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাই পল্লবী জানান, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই তামিল সিনেমার পরিবর্তে মালয়ালম চলচ্চিত্র ‘প্রেমাম’ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। তার ধারণা ছিল, ছবিটি সফল না হলেও পরিচিত মহলে খুব বেশি আলোচনা হবে না। কিন্তু মুক্তির পর সিনেমাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং রাতারাতি তাকে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত করে।

গায়ের রং নিয়ে বৈষম্য এবং অবাস্তব সৌন্দর্যচর্চার বিরুদ্ধেও বরাবরই সোচ্চার সাই পল্লবী। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় ২ কোটি রুপির একটি ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না যা মানুষের মধ্যে ভুল সৌন্দর্যবোধকে উৎসাহিত করে। বিশেষ করে গায়ের রঙের কারণে যেসব মানুষ বৈষম্যের শিকার হন, তাদের অভিজ্ঞতা তাকে এই অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

‘রামায়ণ’-এ সীতার চরিত্রে তার অভিনয় নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও, আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা এবং নিজেকে গ্রহণ করার বার্তা দেওয়া তার পুরোনো বক্তব্য নতুন করে প্রশংসা পাচ্ছে। ফলে ছবিটি মুক্তির আগেই সাই পল্লবীকে ঘিরে আলোচনা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।