গতকাল জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অফিশিয়ালি মুক্তি দেওয়া হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত রিয়্যালিটি শো ‘লক আপ: সচ ইয়া সাজা’র ট্রেলার। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের এই নতুন সিজনে সঞ্চালকের ভূমিকায় দেখা যাবে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা-পরিচালক রিতেশ দেশমুখ এবং খ্যাতিমান পরিচালক-কোরিওগ্রাফার ফারহা খানকে। ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে অবধারিতভাবেই উপস্থিত ছিলেন এই দুই বিটাউন তারকা। উৎসবমুখর এই রাতে তাঁরা শোয়ের প্রথম তিন প্রতিযোগীর নাম উন্মোচন করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দেন। তবে আড্ডার মাঝেই বলিউড মেগাস্টার সালমান খান ও সঞ্জয় দত্তকে ঘিরে এক বিতর্কিত ও উসকানিমূলক প্রশ্নে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন রিতেশ।

সোমবার রাতে মুম্বাইয়ের একটি অভিজাত পাঁচতারা হোটেলে ‘লক আপ’-এর ট্রেলার মুক্তি উপলক্ষে এই বর্ণিল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। এই আসরে শোয়ের মূল প্রযোজক একতা কাপুর, নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট (কনটেন্ট) মনিকা শেরগিল, রিতেশ দেশমুখ ও ফারহা খান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শোয়ের প্রথম তিন প্রতিযোগী। প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালীন এক সাংবাদিক রিতেশকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘সালমান খান ও সঞ্জয় দত্ত আপনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুজনেরই অতীতে লকআপে বা জেলে থাকার অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাহলে আপনি কি তাঁদের নেটফ্লিক্সের এই ‘লক আপ’ শোতে প্রতিযোগী হিসেবে আনতে চাইবেন? আর যদি আনেন, তবে তাঁদের কী শাস্তি দেবেন?’

মূলত সালমান ও সঞ্জয়ের জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং অতীতের আইনি বিতর্ককে ইঙ্গিত করে এমন চটকদার প্রশ্ন করায় রিতেশ দৃশ্যতই চরম বিরক্ত হন। বন্ধু ও সহকর্মীদের এভাবে খোঁচা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ রিতেশ প্রশ্নটি এড়িয়ে না গিয়ে বরং সেই সাংবাদিককে কড়া জবাব দেন। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে এই অভিনেতা বলেন, ‘সবার আগে আমি আপনাকে স্পষ্ট বলতে চাই, আমার মনে হয় না আপনার এই কুরুচিপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে এটিকে কোনো প্রকার সামাজিক বা পেশাদার মর্যাদা দেওয়ার প্রয়োজন আছে।’

রিতেশের এই কড়া জবাবের পরও থামেননি সেই সাংবাদিক। তিনি আবারও জিজ্ঞাসা করেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি কি তাঁদের এই শোতে আমন্ত্রণ জানাতে চান? জবাবে রিতেশ দেশমুখ কঠোর ও পেশাদার ভঙ্গিতে বলেন, ‘আমি কাউকে এখানে নিয়ে আসব না, কারণ আমার দায়িত্ব স্রেফ সঞ্চালনা করা। একজন সঞ্চালক হিসেবে এই রিয়্যালিটি শোয়ের ভেতরে কারা ইনমেট বা বন্দী হিসেবে আসবেন, তা আগে থেকে জানার এক্তিয়ার আমার নেই। “লক আপ”-এ যে অতিথিরাই আসবেন, আমরা স্রেফ তাঁদের সঙ্গে কথা বলব এবং শোয়ের নিয়ম মেনে সঞ্চালনা করব।’

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকের দুটি ভিন্ন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে জেল খাটতে হয়েছিল সালমান ও সঞ্জয়কে। ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলায় যোধপুর আদালত সালমান খানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন, যার জেরে তাঁকে কয়েক দিন যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে কাটাতে হয়েছিল। অন্যদিকে, ১৯৯৩ সালের ধারাবাহিক মুম্বাই বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে আর্মস অ্যাক্টের অধীনে দোষী সাব্যস্ত হয়ে পুনের ইয়েরওয়াড়া জেলে পাঁচ বছরের সাজা ভোগ করেছিলেন সঞ্জয় দত্ত।

বিগত সময়ে ওটিটি ও টেলিভিশনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা ‘লক আপ’-এর প্রথম সিজনের সঞ্চালনা করেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী ও বর্তমান বিজেপি নেত্রী কঙ্গনা রনৌত। তবে নেটফ্লিক্সের নতুন এই সিজনে রিতেশ ও ফারহার যুগলবন্দি দর্শকদের নতুন কোনো ‘সচ ইয়া সাজা’র মুখোমুখি করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।