ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে দিলজিৎ দোসাঞ্জের গাওয়া ‘সাঁসোঁ কি মালা’ গানটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কিংবদন্তি সুফি শিল্পী নুসরাত ফতেহ আলী খানের কণ্ঠে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হওয়া গানটি কনসার্টে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবেশন করেন দিলজিৎ। এবার সেই পরিবেশনা নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নুসরাতের শিষ্য ও ভাতিজা রাহাত ফতেহ আলী খান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দিলজিতের প্রশংসা করতে দেখা যায় রাহাতকে। তার মতে, নুসরাত ফতেহ আলী খানের গান পরিবেশনের সময় অনেক শিল্পীই স্বাভাবিকভাবেই নার্ভাস হয়ে পড়েন। তবে দিলজিৎ গানটি যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে পরিবেশন করেছেন এবং কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়েছেন।

রাহাত বলেন, ‘এমনকি বড় বড় শিল্পীরাও খান সাহেবের গান গাওয়ার সময় নার্ভাস হয়ে পড়েন, এটা বললে হয়তো কম বলা হবে। কিন্তু দিলজিৎ গানটির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়েছেন। তিনি যতটা সম্ভব আন্তরিকতার সঙ্গে এবং মন থেকে গানটি গেয়েছেন। আমরা সেটা দেখতে পাচ্ছি, শুনতেও পাচ্ছি।’

সম্প্রতি ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’-র একটি গুরুত্বপূর্ণ মিড-ক্রেডিট দৃশ্যে ‘সাঁসোঁ কি মালা’ ব্যবহারের পরও নতুন করে আলোচনায় আসে গানটি। ওই দৃশ্যে বীনা ত্রিপাঠী ও বিরজু লোহার চরিত্রে অভিনয় করা রসিকা দুগাল ও মোহিত মালিককে দেখা যায়।

ওয়েম্বলিতে দিলজিতের বিশেষ আয়োজন

দিলজিৎ দোসাঞ্জের ক্যারিয়ারে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের কনসার্টটি ছিল উল্লেখযোগ্য একটি আয়োজন। তার ‘অরা ওয়ার্ল্ড ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই কনসার্টে বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। ওয়েম্বলি কর্তৃপক্ষও অনুষ্ঠানটিকে ভেন্যুটিতে দিলজিতের প্রথম পাঞ্জাবি হেডলাইন পারফরম্যান্স হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

কনসার্টে দর্শকদের উদ্দেশে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে দিলজিৎ বলেন, ‘এই মুহূর্ত ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।’

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে নুসরাত ফতেহ আলী খানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘সাঁসোঁ কি মালা’ পরিবেশন করেন তিনি। এ সময় দর্শকদের অনেকেই মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। সেই পরিবেশনার ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

গত এক দশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের পরিচিতি আরও বিস্তৃত করেছেন দিলজিৎ। এড শিরানের মতো আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দ্য টুনাইট শো স্টারিং জিমি ফ্যালন’-এও দুইবার উপস্থিত হয়েছেন তিনি।

এর আগে অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক জিমি ফ্যালন দিলজিৎকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাঞ্জাবি শিল্পী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। একটি অনুষ্ঠানে দিলজিতের সঙ্গে ভাংড়া নাচেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।