বলিউডের অন্যতম ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় সিনেমা ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ওএমজি’ (OMG - Oh My God!)। তবে এই ছবির দ্বিতীয় কিস্তি তথা ‘ওএমজি ২’ মুক্তির বেশ কিছুদিন পার হয়ে গেলেও এর নেপথ্যের বিতর্ক থামার নামই নিচ্ছে না। সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে বলিউডের জ্যেষ্ঠ অভিনেতা পরেশ রাওয়াল দাবি করেন, ‘ওএমজি ২’ সিনেমার মূল গল্পটি তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল এবং পরিচালক অমিত রাইয়ের সঙ্গে মিলে তিনি নিজেই এটি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু ছবিটিতে তাঁকে কোনো ক্রেডিট দেওয়া হয়নি। পরেশ রাওয়ালের এমন বিস্ফোরক দাবির পর এবার আর চুপ থাকেননি ছবির মূল প্রযোজক অশ্বিন বার্দে। পরেশ রাওয়ালকে সরাসরি ‘অপেশাদার’ ও ‘নীতিহীন’ আখ্যা দিয়ে এক হাত নিয়েছেন তিনি।

বিনোদনভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Pinkvilla-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে অশ্বিন বার্দে বলেন, "সম্প্রতি এক পডকাস্টে ‘ওএমজি ২’ নিয়ে পরেশ রাওয়াল যে সমস্ত অভিযোগ তুলেছেন, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক, অসত্য এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই মিথ্যে অভিযোগগুলোর পর সত্যটা সবার সামনে আনা ছাড়া আমার কাছে আর কোনো বিকল্প ছিল না।"

সিনেমার চিত্রনাট্য তৈরির নেপথ্য ইতিহাস তুলে ধরে অশ্বিন জানান, অভিনেতা পবন মালহোত্রা প্রথম তাঁকে পরিচালক অমিত রাইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এক ঘরোয়া আড্ডায় অমিত অশ্বিনকে একটি গল্পের আইডিয়া শোনান, যা মূলত ‘ওএমজি’ ফরম্যাটের মতোই ছিল। তখন অমিত জানান, পরেশ রাওয়ালই তাঁকে ‘ওএমজি’র আদলে গল্পটি সাজাতে বলেছিলেন। কিন্তু আইনি জটিলতা ছিল অন্য জায়গায় ‘ওএমজি’র মূল আইপি (IP Rights) বা স্বত্ব ছিল বলিউড খিলাড়ি অক্ষয় কুমারের নামে।

অশ্বিন বার্দে অভিযোগ করেন, পরেশ রাওয়াল পরিচালক অমিত রাইকে মিথ্যে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে আইপি রাইটস আসলে পরেশের কাছেই আছে। অশ্বিন বলেন, "সেখানেই পরেশ রাওয়ালের আসল উদ্দেশ্য আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। তিনি মূলত অন্য একজনের সৃষ্টি এবং সম্পত্তি চুরি করে সম্পূর্ণ ভিন্ন নামে ‘ওএমজি’র একটি সংস্করণ তৈরি করতে চাচ্ছিলেন, যা চরম অনৈতিক এবং অপেশাদারিত্বের লক্ষণ। আমার কাছে এটি চুরির চেয়ে কম কিছু নয়।"

প্রযোজক আরও জানান, পরেশ রাওয়াল দাবি করেছেন তিনি চিত্রনাট্যটি নিয়ে অনেক অভিনেতার কাছে গিয়েছিলেন এবং সবাই তা ফিরিয়ে দেন। কিন্তু কেন ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, তা তিনি উল্লেখ করেননি। কারণ অন্য অভিনেতারা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন যে এটি অক্ষয় কুমারের ছবি এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া এতে হাত দেওয়া সম্ভব নয়। পরবর্তীতে অশ্বিনের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াকাও ফিল্মস’ (Wakaoo Films) অমিত রাইয়ের কাছ থেকে এর অফিশিয়াল স্বত্ব কিনে নেয়, কারণ রাই-ই ছিলেন এর একমাত্র নিবন্ধিত লেখক।

গল্পের স্বত্ব কেনার পরও পেশাদারিত্বের খাতিরে পরেশ রাওয়ালকে প্রথম মূল চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং অক্ষয় কুমার নিজেও পরেশকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পরেশ অক্ষয়কে প্রজেক্ট থেকে দূরে রাখতে এতটাই মরিয়া ছিলেন যে তিনি সিনেমাটি করতে সাফ মানা করে দেন। অশ্বিন জানান, "এত কিছুর পরও আমরা পরেশ রাওয়ালকে ‘ওএমজি ২’ ছবিতে প্রযোজক হিসেবে যথাযথ ক্রেডিট দিয়েছি, যদিও এই ছবিতে তাঁর আর্থিক বা সৃজনশীল কোনো অবদান ছিল না। এমনকি তিনি ক্রেডিটে নিজের নাম না দিয়ে তাঁর স্ত্রী স্বরূপ রাওয়াল এবং বিজনেস পার্টনার হেমাল ঠাক্করের নাম ব্যবহার করেন। শুধু তাই নয়, ছবিটির জন্য তাঁকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের বড় সম্মানীও দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি সাক্ষাৎকারে সুবিধাজনকভাবে চেপে গেছেন!"

প্রযোজকের এই পাল্টা জবাবের পর এখন বলিউড পাড়ায় পরেশ রাওয়াল বনাম অক্ষয় কুমারের শিবিরের এই দ্বন্দ্ব কোন মোড় নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।