বলিউড তারকা আমির খানের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে ভারতজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ২০০৯ সালের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘৩ ইডিয়টস’-এ তাঁর অভিনীত কালজয়ী চরিত্র ‘ফুংসুখ ওয়াংড়ু’ (র্যাঞ্চো) লাদাখের বিখ্যাত শিক্ষাবিদ ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুকের জীবনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি আমিরের এমন দাবির পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
লন্ডনে আয়োজিত ‘লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এ এক প্রশ্নের জবাবে আমির খান এই মন্তব্য করেন। আমির দাবি করেন, সিনেমাটি নির্মাণের সময় তিনি, পরিচালক রাজকুমার হিরানি কিংবা লেখক অভিজাত জোশী কেউই সোনম ওয়াংচুককে চিনতেন না। এটি কেবলই একটি ভুল ধারণা। সোনম ওয়াংচুক বর্তমানে দিল্লিতে নিটের (NEET) পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন করছেন। তাঁর এই সংকটাপন্ন সময়ে আমিরের এমন মন্তব্যকে অনেকেই ‘দায় এড়ানোর কৌশল’ ও ‘কাপুরুষতা’ হিসেবে দেখছেন।
আমির খানের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (RJD) রাজ্যসভার সংসদ সদস্য মনোজ ঝা আমিরের এই ব্যাখ্যার টাইমিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, এত বছর সবাই যা বিশ্বাস করে এসেছে, সোনম ওয়াংচুকের অনশনের চরম মুহূর্তে এসে আমিরের এই ভোলবদল প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রের সামনে মেরুদণ্ড সোজা রাখা সহজ কথা নয়। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা হুসেইন দলওয়াই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমির খান এত ভয় পাচ্ছেন কেন তা তাঁর বোধগম্য নয়। ওয়াংচুক যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অনশন করছেন, তখন আমিরের উচিত ছিল তাঁর পাশে দাঁড়ানো।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সাধারণ মানুষ ও অধিকারকর্মীরা আমিরের ওপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। প্রখ্যাত আইনজীবী ও অ্যাক্টিভিস্ট প্রশান্ত ভূষণ এক পোস্টে লিখেছেন, আমিরের এই মন্তব্য প্রমাণ করে তিনি এখন তাঁর অতীত ছায়া মাত্র, যিনি একসময় ‘৩ ইডিয়টস’ বা ‘সত্যমেভ জয়তে’-র মতো বৈপ্লবিক কাজ করেছিলেন। অন্যদিকে প্রখ্যাত গায়ক লাকি আলী সরাসরি আমিরের সমালোচনা না করলেও সোনম ওয়াংচুকের লাদাখ ও ভারতীয় বাহিনীর জন্য করা বিভিন্ন উদ্ভাবনের প্রশংসা করে তাঁর জীবনের সুরক্ষায় সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আমিরের সমর্থনে কিছু নেটিজেন পুরোনো সাক্ষাৎকারের তথ্য শেয়ার করে বলছেন, পরিচালক রাজকুমার হিরানি আগেই জানিয়েছিলেন যে র্যাঞ্চো চরিত্রটি আসলে এফটিআইআই (FTII)-এর এক শিক্ষার্থীর সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত, যিনি বন্ধুর নামে ক্লাস করতেন।