ঈদের আবহে রাজধানীর বিনোদন জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ দর্শকদের মতো সপরিবারে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সাপ্তাহিক ছুটির দিন সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভার শপিং মলে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্সে যান প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
গুঞ্জন বনাম বাস্তবতা: ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ না ‘প্রোজেক্ট হেইল মেরি’? প্রধানমন্ত্রীর প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই গুঞ্জন ওঠে যে, তিনি ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত বাংলা সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখেছেন। নির্মাতা তানিম নূর ও অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এই গুঞ্জনকে আরও উসকে দেয়। তবে পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত সচিব আতিকুর রহমান রুমন নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো বাংলা সিনেমা নয়, বরং হলিউডের সায়েন্স ফিকশন ঘরানার বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘প্রোজেক্ট হেইল মেরি’ উপভোগ করতে স্টার সিনেপ্লেক্সে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাইমা রহমান।
ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া: ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সিনেমা শেষ করে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা ছবিটির মান নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রধানমন্ত্রী হাস্যোজ্জ্বল মুখে উত্তর দেন, “ভালো ছিল, দেখতে পারেন সবাই।” দেশের শীর্ষ নেতার এমন সাবলীল উপস্থিতি এবং সাধারণ দর্শকদের ভিড়ে দাঁড়িয়ে সিনেমা দেখার বিষয়টি নেটিজেনদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত: বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ব্যস্ত শিডিউলের মাঝেও কিছুটা সময় বের করে তিনি চলচ্চিত্র উপভোগ করেছেন। সাধারণ দর্শকদের মতে, সরকার প্রধানের এভাবে টিকিট কেটে সশরীরে প্রেক্ষাগৃহে যাওয়া বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি ঘটনা। এটি যেমন দর্শকদের হলে ফিরতে অনুপ্রাণিত করবে, তেমনি দেশীয় সিনেমা হলগুলোর আধুনিকায়ন ও প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।