একসময় দেশের শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের অন্যতম পরিচিত মঞ্চ ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জনপ্রিয় আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি’। গান, অভিনয়, নৃত্য ও আবৃত্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই আয়োজনের মাধ্যমে উঠে এসেছেন সামিনা চৌধুরী, তারানা হালিম, রুমানা রশিদ ঈশিতা, তারিন জাহান, মেহের আফরোজ শাওন ও নুসরাত ইমরোজ তিশার মতো পরিচিত শিল্পী। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালে আবারও শুরু হয় অনুষ্ঠানটি। এবারও নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের খুঁজে বের করতে বসছে ‘নতুন কুঁড়ি’র আসর।
আগামী ১ অক্টোবর থেকে ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৬’-এর জন্য আবেদন নেওয়া শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। মঙ্গলবার রাতে বিটিভির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাই শুরু হবে। এরপর বিভাগীয় পর্যায়ের বাছাই শেষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্ব ও ফাইনাল প্রতিযোগিতা। এবারের আয়োজনে অভিনয়, আবৃত্তি, গল্প বলা ও কৌতুক, সাধারণ ও উচ্চাঙ্গ নৃত্য, দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গান, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকসংগীত এবং হামদ-নাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
বয়সের ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের দুটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে। ‘ক’ শাখায় অংশ নিতে পারবে ৬ বছর থেকে ১১ বছরের নিচের শিশুরা। ‘খ’ শাখায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের। এ ছাড়া ক্বিরাত প্রতিযোগিতা হবে একটি শাখায়। এতে অংশ নিতে পারবে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালে আবারও শুরু হওয়া ‘নতুন কুঁড়ি’র গত আসরে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ‘ক’ ও ‘খ’ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় যথাক্রমে টাঙ্গাইলের প্রেয়সী চক্রবর্তী ও সুনামগঞ্জের শুভমিতা তালুকদার। এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে বিটিভি।
‘নতুন কুঁড়ি’র ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান টেলিভিশনে প্রথম প্রচারিত হয় অনুষ্ঠানটি। স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে মুস্তাফা মনোয়ারের প্রযোজনায় বিটিভিতে নতুন করে যাত্রা শুরু করে এটি। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশের এই আয়োজন ২০০৫ সাল পর্যন্ত চলার পর বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালে আবারও বিটিভির পর্দায় ফেরে ‘নতুন কুঁড়ি’।
এ আয়োজনের মঞ্চ থেকেই বিভিন্ন সময়ে বিনোদন অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন অনেক শিল্পী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তারানা হালিম, সামিনা চৌধুরী, রুমানা রশিদ ঈশিতা, তারিন জাহান, মেহের আফরোজ শাওন ও নুসরাত ইমরোজ তিশার মতো তারকারা। এবার তাঁদের উত্তরসূরি হিসেবে নতুন প্রজন্মের কারা উঠে আসে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক কাজী জেসিন প্রথম আলোকে বলেন, নতুন কুঁড়ির মাধ্যমে এমন কিশোর-কিশোরীদের তুলে আনতে চান, যারা আগামী দিনের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেবে। দেশের আনাচকানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবানদের নিবন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তাদের খুঁজে বের করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কাজী জেসিন আরও বলেন, জাতীয় গণমাধ্যম হিসেবে নতুন কুঁড়ির মাধ্যমে জাতির মনন গঠনের উপযোগী কনটেন্ট ও বিষয় সমৃদ্ধ করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য জাতীয় গণমাধ্যমের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিটিভিকেও পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার কথা জানান তিনি।
বর্তমান প্রজন্মের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবকেন্দ্রিক হওয়ায় তাদের নতুন কুঁড়ির সঙ্গে যুক্ত করতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে প্রচারের মাধ্যমে আয়োজনটির সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান বিটিভির মহাপরিচালক।
ডিজিটাল মাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন আগের মতো দীর্ঘ অনুষ্ঠান দেখার জন্য দর্শক টেলিভিশনের সামনে বসে থাকেন না। তাই তিন থেকে পাঁচ মিনিটের কনটেন্টের মাধ্যমে দর্শকদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক বাছাইয়ে নির্বাচিত প্রতিযোগীদের গল্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে তুলে ধরা হবে।
তাঁর মতে, প্রতিযোগীদের আত্মীয়-পরিজনসহ একটি বড় দর্শকগোষ্ঠী নতুন কুঁড়ির সঙ্গে যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে দর্শকদের আবারও টেলিভিশনমুখী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হবে।