অভিনয়শিল্পী নাজিয়া হক অর্ষা মনে করেন, শিল্পমানসম্মত কাজই একজন শিল্পীকে ভিড় থেকে আলাদা করে তোলে। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর দায়বদ্ধতা সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি। অর্ষার ভাষায়, শিল্পী হিসেবে প্রতিটি কাজের মধ্য দিয়ে একটি ছাপ রেখে যাওয়ার দায়িত্ব থাকে, কারণ দর্শক শুধু মানুষটিকে নয়, অভিনীত চরিত্রকেও অনুসরণ করে।

বর্তমান সময়ের তরুণদের টিকটকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকে পড়া নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি ঢাকার উত্তরার ক্ষণিকালয় শুটিংবাড়িতে এহসান এলাহি বাপ্পী পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক ‘মিডলক্লাস ফ্যামিলি’র শুটিং সেটে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্ষা বলেন, দেশের বাস্তবতায় তরুণদের টিকটকের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাঁর কথায়, যে দেশে মাস্টার্স শেষ করেও চাকরি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে, সেখানে নকল করেও যদি ডলার আয় করা যায়, তরুণরা সেটার দিকেই ঝুঁকবে। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক বাস্তবতাই এই প্রবণতাকে উৎসাহ দিচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশে নতুন আবিষ্কার কিংবা উল্লেখযোগ্য সৃজনশীল চর্চার অভাব রয়েছে বলেও মনে করেন অর্ষা। তিনি বলেন, আমরা অনেক দিন ধরেই বড় কোনো নতুন চিন্তা বা সৃষ্টির কথা শুনছি না। হুমায়ূন আহমেদের পর কি আমরা তেমন কোনো শক্তিশালী লেখক পেয়েছি, কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে কোনো প্রভাবশালী চিত্রশিল্পীর নাম সামনে এসেছে? তাঁর মতে, সমাজে বহু বিষয়কে ট্যাবু করে রাখার কারণে শিশুদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অর্ষা জানান, নিজের চারপাশে তিনি দেখেন ছোট শিশুরা মোবাইল ফোন, ভিডিও গেম আর টিকটকে ডুবে আছে। পড়াশোনা, বই পড়া কিংবা নতুন সিনেমা-নাটকের প্রতি তাদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম। অথচ সহজে আয় করার সুযোগই তাদের এসব প্ল্যাটফর্মের দিকে বেশি টানছে।

উল্লেখ্য, পাঁচ বছর আগে মিজানুর রহমান আরিয়ানের পরিচালনায় ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ ওয়েব ফিল্মে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসেন নাজিয়া হক অর্ষা। এখনো দর্শকেরা তাঁর অভিনীত তানিয়া চরিত্রটি মনে রেখেছেন। সিনেমায় নতুন কাজ প্রসঙ্গে আপাতত বিস্তারিত বলতে চান না তিনি। তবে জানান, হাতে কিছু গল্প রয়েছে। অর্ষার ভাষায়, নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলতে চান না তিনি। তাঁর লক্ষ্য, সিনেমার মাধ্যমে আগের কাজের মানকেও ছাড়িয়ে যাওয়া। সে জন্য ধৈর্য ধরতে প্রস্তুত আছেন এবং শিগগিরই দর্শকদের ভালো খবর দিতে চান।