তুর্কি-জার্মান অভিনেত্রী মেরিয়েম উজেরলির জন্মদিন আজ। তুরস্কের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেঞ্চুরি (সুলতান সোলেমান)’-এ হুররেম সুলতানের চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান তিনি। তবে তারকা হয়ে ওঠার এই গল্পের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না।

হুররেম সুলতানের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব যখন মেরিয়েমের সামনে আসে, তখন তিনি জীবনের কঠিন এক সময় পার করছিলেন। ছয় বছরের একটি সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল, হাতে কোনো কাজ ছিল না। এমনকি পরের মাসের বাড়িভাড়া কীভাবে দেবেন, সেটিও জানতেন না তিনি।

মেরিয়েমের ভাষায়, সেই সময় তিনি ছয় বছরের একটি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন এবং কোনো কাজ ছিল না। ঠিক তখনই ইস্তাম্বুলের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বড় ধারাবাহিকের জন্য অডিশনের সুযোগ পান তিনি। থিয়েটারে কাজ করার সময় পরিচিত একজন তার অভিনয়ের ভিডিও ওই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়েছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, মেরিয়েম হুররেম সুলতানের চরিত্রের জন্য উপযুক্ত।

তবে তখন হুররেম সুলতানের চরিত্র পাওয়ার কথা স্বপ্নেও ভাবেননি মেরিয়েম। তার একমাত্র প্রত্যাশা ছিল, ধারাবাহিকটির কোনো একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া। কারণ তখন তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল একটি কাজ পাওয়া এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা থেকে বেরিয়ে আসা।

শেষ পর্যন্ত সেই অডিশনই বদলে দেয় মেরিয়েমের জীবন। তিনি পেয়ে যান হুররেম সুলতানের প্রধান চরিত্র। তবে চরিত্রটি যে তাকে এত বড় সাফল্য এনে দেবে, তা তখন তিনি জানতেন না। এমনকি ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেঞ্চুরি’ ভবিষ্যতে এতটা জনপ্রিয় হবে, সেটিও নির্মাতাদের কাছে নিশ্চিত ছিল না। মেরিয়েমের কাছে তখন এটি ছিল চিত্রনাট্যকার, পরিচালক ও প্রযোজকদের একটি স্বপ্ন মাত্র।

প্রথম পর্বের চিত্রনাট্য পড়েই হুররেম চরিত্রটির গভীরতা মেরিয়েমকে নাড়া দেয়। চরিত্রটির আবেগ তাকে এতটাই আচ্ছন্ন করেছিল যে, হুররেমকে পর্দায় জীবন্ত করে তোলাকেই নিজের প্রধান কাজ হিসেবে দেখেছিলেন তিনি। নিজের সত্তাকে আড়ালে রেখে চরিত্রটির ভেতরে পুরোপুরি ঢুকে পড়েছিলেন এই অভিনেত্রী।

প্রায় তিন বছর হুররেম চরিত্রটি প্রতিদিন নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে মেরিয়েমের সামনে। ক্ষমতা, ভালোবাসা, আগ্রাসন, সংগ্রাম ও নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে চরিত্রটি এগিয়ে যায়। মেরিয়েমের কাছে হুররেম ছিল ‘বিস্ফোরণের অপেক্ষায় থাকা বোমার মতো’। তার অভিনয়জীবনে এর চেয়ে শক্তিশালী চরিত্র আর আসেনি বলেই মনে করেন তিনি।