ঢাকায় জন্ম নেওয়া উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সুমন কল্যাণপুর আর নেই। ‘আজকাল তেরে মেরে পেয়ার কে চর্চে’, ‘না না করতে পেয়ার তুমহি সে’ কিংবা বাংলা গান ‘মনে করো আমি নেই, বসন্ত এসে গেছে’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী গানের এই গায়িকা রোববার মুম্বাইয়ের লোখান্ডওয়ালার নিজ বাসভবনে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভোগার পর রোববার রাত আটটার দিকে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বিদায় নেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মঙ্গলা খাদিকর নিশ্চিত করেছেন।
১৯৩৭ সালের ২৮ জানুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ঢাকায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর আসল পদবি ছিল হেমাডি। তাঁর বাবা শঙ্কর রাও হেমাডি ব্যাংকের কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকায় শৈশবের প্রথম ভাগ তাঁর এখানেই কাটে, পরবর্তীতে ১৯৪৩ সালে তাঁরা বোম্বেতে (বর্তমান মুম্বাই) চলে যান। কৈশোরে নূরজাহানের গান শুনে সংগীতের প্রতি অনুরাগী হওয়া সুমনকে প্রথম তালিম দেন খ্যাতিমান মারাঠি সংগীত পরিচালক কেশবরাও ভোলে। ১৯৫৪ সালে ‘মঙ্গু’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হিন্দি প্লেব্যাকে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। এরপর শচীন দেববর্মন, মদন মোহন, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তিদের সুরে বলিউডের বহু জনপ্রিয় সিনেমা ও ধ্রুপদী গানে কণ্ঠ দিয়ে তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৫৮ সালে রামানন্দ কল্যাণপুরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তিনি ‘কল্যাণপুর’ পদবি গ্রহণ করেন। সংগীতে অনন্য অবদানের জন্য তিনি তিনবার ‘সুর শ্রীনগর সংসদ’ সম্মান, ২০০৯ সালে ‘লতা মঙ্গেশকর পুরস্কার’ এবং ২০২৩ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’-এ ভূষিত হন। তাঁর প্রয়াণে ভারতের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।