বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন আজ সাফল্যের শিখরে অবস্থান করলেও তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। অভিনয়জগতে নিজের জায়গা তৈরি করতে গিয়ে তাঁকে বারবার প্রত্যাখ্যান, হতাশা এবং অদ্ভুত সব মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সম্প্রতি নিজের জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই সংগ্রামের দিনগুলোর কথা স্মরণ করেছেন এই অভিনেত্রী।
কৃতি জানান, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তাঁর সামনে স্থায়ী চাকরির সুযোগ ছিল। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে মুম্বাইয়ে নিয়ে আসে। ফিল্মি পরিবারের সদস্য না হওয়ায় শুরু থেকেই কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। একের পর এক অডিশন দিয়েও কাজ না পাওয়ার হতাশা তাঁকে অনেক সময় কাঁদিয়েছে।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, অনেকেই তাঁকে বলেছিলেন যে তাঁর মধ্যে নাকি কোনো একটি ঘাটতি রয়েছে। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা ছিল এক পরিচালকের মন্তব্য। কৃতির দাবি, একজন পরিচালক সরাসরি তাঁকে বলেছিলেন যে তিনি ‘খুব বেশি সুন্দর’। সেই পরিচালকের মতে, কোনো চরিত্রকে বাস্তবসম্মতভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে কিছু অপূর্ণতা প্রয়োজন, আর কৃতির চেহারা নাকি অতিরিক্ত নিখুঁত হওয়ায় তিনি চরিত্রটির জন্য উপযুক্ত নন।
এই মন্তব্য তাঁকে মানসিকভাবে আঘাত করেছিল। তবে হতাশার কাছে হার না মেনে নিজের ওপর বিশ্বাস ধরে রাখেন কৃতি। পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ কয়েকজন মানুষের সমর্থন তাঁকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগায়। সেই শক্তিতেই তিনি অভিনয়ের পথচলা চালিয়ে যান।
পরবর্তীতে ‘হিরোপান্তি’, ‘দিলওয়ালে’, ‘বারেলি কি বরফি’ এবং ‘মিমি’র মতো ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন কৃতি। বিশেষ করে ‘মিমি’ ছবিতে একজন সারোগেট মায়ের চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। এই চরিত্রের জন্য তিনি ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর সম্মানও অর্জন করেন।
একসময় যাঁকে বিভিন্ন কারণে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, সেই কৃতিই আজ বলিউডের সবচেয়ে সফল অভিনেত্রীদের একজন। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক উদ্যোগেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং অদম্য মানসিকতার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, শুরুতে পাওয়া প্রত্যাখ্যানই শেষ কথা নয়; বরং সেটাই বড় সাফল্যের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।