প্রায় দুই দশক ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে সফলভাবে কাজ করে চলেছেন কাজল আগরওয়াল। দক্ষিণী সিনেমা থেকে বলিউড, দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করা এই অভিনেত্রী সম্প্রতি একাধিক সাক্ষাৎকারে অভিনয়জীবন, গ্ল্যামার জগতের পরিবর্তন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তাঁর মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে অভিনেত্রীদের ওপর নিখুঁত দেখানোর চাপ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা নির্মম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
বর্তমানে কাজল অপেক্ষায় আছেন তাঁর নতুন ছবি The India Story-এর মুক্তির। চেতন ডিকে পরিচালিত এই ছবিতে কীটনাশকনির্ভর কৃষিকাজ এবং খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানোর ফলে সমাজে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তা তুলে ধরা হয়েছে। ছবিতে একজন আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা যাবে কাজলকে, যিনি সত্য উদ্ঘাটনের লড়াইয়ে নামেন। বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত এই ছবির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, গবেষণার তথ্যগুলো জানার পর তিনি উপলব্ধি করেন যে মানুষ অনেক সময় নিজেদের সীমিত জগতের মধ্যেই আবদ্ধ থাকে। তাঁর মতে, বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরা জরুরি, কারণ সচেতনতা তৈরি হলেই মানুষ সমস্যাগুলো নিয়ে ভাববে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
কাজল বলেন, ছবিটির গল্প তাঁকে ব্যক্তিগতভাবেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এমনও রাত গেছে যখন তিনি ঘুমাতে পারেননি। বাড়ি ফিরে স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং পরিবারের জন্য নিরাপদ খাদ্য নির্বাচন নিয়ে আরও সতর্ক হয়েছেন। শুধু তাই নয়, বন্ধুদেরও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন কোনো পণ্য বা দোকানকে শুধুমাত্র বাহ্যিক আকর্ষণের ভিত্তিতে বিশ্বাস না করে মান যাচাই ও অনুমোদনের সিল দেখে সিদ্ধান্ত নিতে।
গ্ল্যামার জগতের পরিবর্তন প্রসঙ্গে কাজল জানান, তিনি যখন অভিনয় শুরু করেছিলেন, তখন পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আধিপত্য ছিল না এবং তারকাদের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে এতটা জনসমালোচনাও হতো না। বিমানবন্দরে কী পোশাক পরে যাচ্ছেন বা কীভাবে চলাফেরা করছেন, সেসব নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘ ভ্রমণের সময় আরামদায়ক পোশাকই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এখন তারকাদের প্রায় প্রতিটি উপস্থিতিই আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
তবে অভিনেত্রী স্বীকার করেন, সৌন্দর্য ও শারীরিক গড়ন নিয়ে চাপ আগে থেকেও ছিল। পার্থক্য হলো, সেই চাপ মূলত আসত নির্মাতা বা ইন্ডাস্ট্রির ভেতর থেকে। কেউ তাঁকে ওজন বাড়াতে বলতেন, আবার কেউ ওজন কমানোর পরামর্শ দিতেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠোর এবং প্রকাশ্য। তাই বর্তমান প্রজন্মের অভিনেত্রীদের জন্য তাঁর সহানুভূতি রয়েছে। তিনি আশা করেন, নতুন প্রজন্ম নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় থাকবে এবং বাইরের চাপের মধ্যেও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারবে।
নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কাজল জানান, তিনি কখনোই শুধুমাত্র সুযোগ পাওয়ার জন্য সবকিছুতে সম্মতি জানানোর পক্ষপাতী ছিলেন না। বরং প্রয়োজন হলে ‘না’ বলার সাহস রাখাটাকেই তিনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। শুরু থেকেই তাঁর বিশ্বাস ছিল, কোনো সুযোগ এলে ভালো, না এলে সেটিও মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
এদিকে কাজলকে শিগগিরই দেখা যাবে নিতেশ তিওয়ারি পরিচালিত বহুল আলোচিত Ramayana ছবিতে। এই ছবিতে তিনি রাবণের স্ত্রী মন্দোদরীর চরিত্রে অভিনয় করছেন। চরিত্রটির পর্দায় উপস্থিতি সীমিত হলেও এত বড় একটি চলচ্চিত্র প্রকল্পের অংশ হতে পেরে তিনি ভীষণ আনন্দিত। কাজলের ভাষায়, ভারতীয় সংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এমন একটি গল্পের অংশ হতে পারা তাঁর জন্য বিশেষ সম্মানের।
আগামী ২৪ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে The India Story ছবিটির।