ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম শীর্ষ জনপ্রিয় ও নন্দিত অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমার ৪৫তম জন্মদিন আজ। ১৯৮১ সালের ১১ জুলাই রাজধানী ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন দর্শকদের হৃদয়ে রাজত্ব করা এই মিষ্টি হাসির নায়িকা। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে রূপালী পর্দায় অভিনয়, নাচ এবং অনবদ্য উপস্থাপনা দিয়ে কোটি ভক্তের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন তিনি। জীবনের এই বিশেষ দিনটিতে মধ্যরাত থেকেই সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্তদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন ঢাকাই সিনেমার এই ‘হার্টথ্রব’।

১৯৯৮ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর ‘এ জীবন তোমার আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মাত্র ১৭ বছর বয়সে রূপালী পর্দায় অভিষেক ঘটে পূর্ণিমার। প্রথম ছবিতেই নায়ক রিয়াজের বিপরীতে তাঁর অনবদ্য অভিনয় ও নজরকাড়া সৌন্দর্য দর্শকদের মুগ্ধ করে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। রিয়াজের সঙ্গেই তাঁর জুটি ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় রোমান্টিক জুটি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ‘এ মন চায় হে’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘শাস্তি’ এবং ‘সুভা’র মতো অসংখ্য কালজয়ী ও ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন তাঁরা।

রিয়াজ ছাড়াও মান্না, শাকিব খান, ফেরদৌস, আমিন খানের মতো শীর্ষ নায়কদের সাথেও উপহার দিয়েছেন দারুণ সব ছবি। বিশেষ করে মান্নার বিপরীতে ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ এবং ‘সুলতান’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শক আজও মনে রেখেছে। ২০১০ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ চলচ্চিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ লাভ করেন তিনি।

পর্দার অভিনয়ের পাশাপাশি পূর্ণিমা একজন দুর্দান্ত নৃত্যশিল্পী এবং সফল উপস্থাপক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর রসবোধ এবং চমৎকার বাচনভঙ্গির কারণে বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও রিয়েলিটি শোর উপস্থাপনায় তিনি সবসময়ই অনন্য। ব্যক্তিগত জীবনে ২০২২ সালের মে মাসে আশফাকুর রহমান রবিনকে বিয়ে করেন তিনি। বর্তমানে চলচ্চিত্র থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, বিজ্ঞাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত নিজের সরব উপস্থিতির মাধ্যমে ভক্তদের কাছাকাছি রয়েছেন দুই বাংলার এই প্রিয় তারকা।