ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত চলচ্চিত্র Bonolota Express দেখে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তরুণ সংসদ সদস্য Hasnat Abdullah। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ লেখায় তিনি সিনেমাটিকে ‘জীবন্ত দুঃখের এক বাহন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এমন একটি চলচ্চিত্র, যেখানে ছোট ছোট গল্পের মাধ্যমে উঠে এসেছে অসংখ্য মানুষের জীবনসংগ্রাম, বেদনা ও স্বপ্ন। তার মতে, সিনেমাটি দেখার পর ট্রেনটিকে আর কেবল একটি যানবাহন মনে হবে না; বরং মনে হবে মানুষের দুঃখ, হারানো আর আশার গল্পে ভরা এক চলমান পৃথিবী।

চলচ্চিত্রের বিভিন্ন চরিত্রের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ডাক্তার আশাব, গণিতের অধ্যাপক রশিদ উদ্দিন, মন্ত্রী আবুল খায়ের কিংবা মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানো আজিজ, প্রত্যেকেই আসলে সমাজের বিভিন্ন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। তাদের গল্পের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সাধারণ মানুষের জীবনযুদ্ধ, ব্যর্থতা, আফসোস ও টিকে থাকার আকাঙ্ক্ষা।

তার ভাষায়, একই ট্রেনে যেমন একজন তরুণের কফিন যাত্রা করে, তেমনি আরেকজন তরুণী নতুন জীবনের পথে পা বাড়ায়। বিদায় ও আগমনের এই সহাবস্থানই মানবজীবনের সবচেয়ে বড় সত্যকে তুলে ধরে।

হাসনাত আরও লেখেন, জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়টুকুই মানুষের জীবন। সেই জীবনজুড়ে রয়েছে দুঃখ, আনন্দ, হারানো, প্রাপ্তি, ভালোবাসা এবং অনিশ্চয়তা। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সেই বাস্তবতাকেই গভীর মানবিকতায় তুলে ধরেছে।

চলচ্চিত্রটির প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি কেবল একটি গল্প নয়, বরং আমাদের সবার গল্প। যেখানে বারবার ভেঙে পড়ার পরও মানুষ আবার উঠে দাঁড়ায় এবং সামনে এগিয়ে যায়। তার মতে, এই চলমানতাই জীবনের প্রকৃত ধর্ম।

লেখার শেষাংশে হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্য করেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেসকে কেউ থামাতে পারে না। কারণ এই ট্রেন মানবজীবনের প্রতীক। যেখানে স্থবিরতা নয়, রূপান্তরই চূড়ান্ত সত্য। আর সেই রূপান্তরের মধ্য দিয়েই মানুষ দুঃখকে মহাকাব্যে, সংগ্রামকে সাফল্যে এবং সম্ভাবনাকে ইতিহাসে পরিণত করে।’