দুই বাংলার রূপালি পর্দার অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানের জন্মদিন আজ। ১৯৮৩ সালের ১ জুলাই ঢাকার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই গুণী শিল্পী। সময়ের সীমানা পেরিয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত ভেঙে নতুন রূপ দেওয়ার এক জাদুকরী ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। বয়সকে কেবলই একটি সংখ্যা প্রমাণ করে আজও তিনি সমান দীপ্তিতে দুই বাংলার সিনেমাপ্রেমীদের বুঁদ করে রেখেছেন মোহময় অভিনয়ে।

জয়া আহসান শুধু একজন সফল অভিনেত্রীই নন, বরং দুই বাংলার চলচ্চিত্র সংস্কৃতির এক অনন্য সেতু। নব্বইয়ের দশকে মডেলিং ও ছোট পর্দা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও খুব দ্রুতই নিজের অভিনয়শৈলীর কারণে বড় পর্দায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করেন। চলচ্চিত্রে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার মাধ্যমে। তবে ২০১১ সালে ‘গেরিলা’ চলচ্চিত্রে বিলকিস বানু চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করে। এই ছবির জন্য তিনি প্রথমবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ‘চোরাবালি’, ‘জিরো ডিগ্রী’, ‘দেবী’ এবং ‘বিউটি সার্কাস’-এর মতো ভিন্নধর্মী ও প্রশংসিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে চারবার বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিজের ঝুলিতে পুরেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি একজন সফল প্রযোজক হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি; হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে তাঁর প্রযোজিত ও অভিনীত ‘দেবী’ সিনেমাটি বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পায়।

ঢাকার গণ্ডি পেরিয়ে জয়া নিজের অভিনয়ের দ্যুতি ছড়িয়েছেন ওপার বাংলা তথা ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও। অরিন্দম শীলের ‘আবর্ত’ দিয়ে কলকাতায় অভিষেক হওয়া জয়া খুব দ্রুতই সেখানকার প্রথম সারির নির্মাতাদের প্রথম পছন্দে পরিণত হন। সৃজিত মুখার্জির ‘রাজকাহিনী’, কৌশিক গাঙ্গুলির ‘বিসর্জন’ ও ‘বিজয়া’ এবং অতনু ঘোষের ‘বিনিসুতোয়’ চলচ্চিত্রে তাঁর অসাধারণ অভিনয় দুই বাংলার দর্শকদের পাশাপাশি সমালোচকদেরও ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়। জয়া আহসানই প্রথম বাংলাদেশী অভিনেত্রী, যিনি ভারতের মর্যাদাপূর্ণ ‘ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস ইস্টার্ন’ (Filmfare Awards East)-এ একাধিকবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে দেশের গৌরব আন্তর্জাতিক দরবারে তুলে ধরেছেন।

শুধুমাত্র অভিনয়েই নয়, সমাজের প্রতি নিজের দায়িত্ববোধ থেকেও জয়া সবসময় সচেতন। তিনি জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) বাংলাদেশের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া পশুপাখির অধিকার রক্ষা এবং প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণেও তিনি সবসময় সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন।

আজ পয়লা জুলাই, এই প্রিয় অভিনেত্রীর শুভ জন্মদিনে দুই বাংলার চলচ্চিত্র অঙ্গন, সহকর্মী এবং দেশ-বিদেশের কোটি ভক্তরা তাঁকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সকাল থেকেই বইছে শুভেচ্ছার জোয়ার। জীবনের নতুন বছরে এসেও জয়া আহসান বরাবরের মতোই তাঁর কাজের মাধ্যমে দর্শকদের চমকে দেওয়ার জন্য নতুন নতুন প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুভ জন্মদিন জয়া আহসান বাঙালি চলচ্চিত্রের চিরযৌবনা এক লিগ্যাসি!