দীর্ঘ ছয় বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’ নিয়ে বিশ্বসংগীতের মঞ্চে একসঙ্গে ফিরেছে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় পপ ব্যান্ড বিটিএস (BTS)। বাধ্যতামূলক সামরিক জীবনের ১৮ মাসের বিরতি কাটিয়ে ব্যান্ডের সাত সদস্য- আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি এবং জাংকুক আবার একত্রিত হয়েছেন। নতুন এই অ্যালবামে তাঁদের ২০১৩ সালের শুরুর দিকের হিপ-হপ ঘরানার শেকড়কে আরও পরিণত ও শক্তিশালীভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর বিটিএসের এই প্রত্যাবর্তন যে কতটা প্রভাবশালী, তা প্রমাণ করেছে ‘আরিরাং’-এর বাণিজ্যিক সাফল্য। অ্যালবামটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৬ লাখ ৪১ হাজার কপির বেশি বিক্রি হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে ১১৫টি দেশের অ্যাপল মিউজিক চার্টের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে। একটি প্রাচীন কোরিয়ান লোকগানের নামানুসারে এই অ্যালবামের নামকরণ করা হলেও, এতে সচেতনভাবেই কোরিয়ান ভাষার ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।

ব্যান্ডের লিডার আরএম জানান, সামরিক বাহিনীর দিনগুলো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশ চাপযুক্ত ছিল। ঠান্ডা আর্মি বাঙ্কে কাটানো অনিদ্রার রাতগুলোতে তিনি রেইনার মারিয়া রিলকের কবিতা ও বিভিন্ন আধুনিক গান শুনে নিজেকে শান্ত রাখতেন। আরএমের মতে, এই মানসিক চাপ তাঁকে সাময়িকভাবে একটি ‘গুহায়’ ঠেলে দিয়েছিল, তবে সেই অনুভূতি চিরস্থায়ী ছিল না। ২০২৬ সালে এসে বিটিএসের পরিচয় কী, তা ভক্তরা এই অ্যালবামের ১৪টি গানের মাধ্যমে খুঁজে পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিজেদের প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ করে কাজকে শেষ সীমায় নিয়ে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা থেকেই এই নতুন অ্যালবাম তৈরি হয়েছে। দলের সবচেয়ে বড় সদস্য জিন, যিনি প্যারিস অলিম্পিক ২০২৪-এ মশাল বহন করেছিলেন, তিনি জানান যে একক ক্যারিয়ারের চেয়ে দলের সঙ্গে থাকাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। অন্যদিকে, অন্যান্য সদস্য যেমন জে-হোপ, সুগা, জিমিন, ভি এবং জাংকুক তাঁদের একক ক্যারিয়ারের বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা ও সাফল্যকে সঙ্গে নিয়ে আরও পরিপক্ক ও খোলা মনে দলে ফিরেছেন।

এই অ্যালবামের প্রস্তুতি পর্বটি ছিল বেশ গোছানো। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসের একটি বাড়িতে প্রায় দুই মাস ধরে প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা কঠোর অনুশীলন ও রেকর্ডিংয়ের কাজ করেন। সেখানে প্রযোজক ডিপ্লো এবং এল গুনিনচোর মতো আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে কাজ করে তৈরি হয়েছে লিড সিঙ্গেল ‘সুইম’ এবং জাংকুকের র‍্যাপ সমৃদ্ধ ‘হুলিগ্যান’-এর মতো গান। ব্যান্ডের দীর্ঘদিনের প্রযোজক পিডগ জানান, এই অ্যালবামে সচেতনভাবে হিপ-হপ ধারা ধরে রাখা হলেও প্রত্যেকের নিজস্ব স্টাইলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিটিএসের এই বিপুল সাফল্যে যেমন কোটি ভক্ত আনন্দিত, তেমনি নিন্দুকদের উদ্দেশ্য করে তাঁরা তৈরি করেছেন ‘২.০’ নামের একটি গান। তবে বিশ্বমঞ্চে টেইলর সুইফট বা হ্যারি স্টাইলসের মতো তারকাদের পাশে নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করানো হলেও আরএম বিনয়ের সঙ্গে নিজেকে কোরিয়ার একটি ‘ক্ষুদ্র বয় ব্যান্ড’ হিসেবেই আখ্যা দেন। ভবিষ্যতে অন্ধের মতো প্রতিযোগিতার পেছনে না ছুটে, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিয়ে কাজ উপভোগ করার পাশাপাশি দ্রুত পরিবর্তনশীল মিউজিক ট্রেন্ডের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সিঙ্গেল বা মিনি অ্যালবাম প্রকাশের পরিকল্পনা করছে ব্যান্ডটি।