ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত সেতু নির্মাণসহ পাঁচ দফা দাবিতে ভোলা জেলার বাসিন্দারা রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন। শুক্রবার বিকেল ৩টায় পূর্বঘোষিত ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি জাতীয় জাদুঘরের সামনে শুরু হলেও, পরে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করা হয়। এতে মোড়ের সব দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনকারীরা স্লোগান দেন, ‘সেতু, সেতু, সেতু চাই, ভোলা-বরিশাল সেতু চাই’, ‘দাবি মোদের একটাই, ভোলা-বরিশাল সেতু চাই’, ‘আমার গ্যাস তুমি নাও, বিনিময়ে কী দাও’ এবং অন্যান্য দাবিও তুলে ধরেন।
সেতু ছাড়াও আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, ভোলায় মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, গ্যাসভিত্তিক শিল্পায়ন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, এবং নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ।
এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ভোলার সন্তান ও জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। শনিবার দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “‘ভোলা-বরিশাল সেতু চাই’ আন্দোলনের সঙ্গে ভোলার সন্তান হিসেবে আমি একাত্মতা প্রকাশ করছি। ভোলা প্রায় ২০ লাখ মানুষের একটি দ্বীপ, যেখানে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম লঞ্চ বা জলযোগ। উন্নত চিকিৎসা বা শিক্ষাব্যবস্থা নেই।”
তৌসিফ আরও বলেন, আন্দোলনকারীরা চরফ্যাশন থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত হেঁটে আসেন এবং পদ্মা নদী সাঁতার কেটে পার হন। স্রোতের টানে দুইজন আহত হলেও তারা মোট প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার হেঁটে ঢাকায় পৌঁছে ৮ দিন ধরে শাহবাগে অবস্থান নেন এবং সরকারকে ৫ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি জমা দেন। একই সময়ে ভোলা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় মানববন্ধন, শহীদ মিনারে প্রজ্বালন এবং গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর শাহবাগে গণসমাবেশে প্রায় ২০ হাজার লোক অংশ নেন। তৌসিফ মাহবুব বলেন, “আমাদের ভাইদের এই ত্যাগ ও ভোলাবাসী তথা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যৌক্তিক দাবির আমি সমর্থন করছি। সরকারের প্রতি আবেদন, যাতে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটি শুধু দুই অঞ্চলের নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের স্বপ্ন বহন করে।”
অভিযোগ করছেন ভোলার গণমাধ্যমকর্মীরা, সড়কপথে দেশের সঙ্গে সংযোগ না থাকার কারণে জেলার প্রাকৃতিক গ্যাস দেশের অর্থনীতিতে যথাযথ অবদান রাখতে পারছে না। সেতু নির্মাণ হলে এ বিচ্ছিন্নতা দূর হবে এবং ভোলা দেশের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।