আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সুপারমডেল Bella Hadid উগান্ডার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বিশুদ্ধ পানির কূপ নির্মাণে অর্থায়ন করেছেন। ‘অ্যামি বেল চ্যারিটিজ’-এর উদ্যোগে নির্মিত এই কূপটির নাম রাখা হয়েছে ‘বেলার কূপ’।

এই প্রকল্পের ফলে এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও পরিবারগুলো এখন সহজেই নিরাপদ খাবার পানির সুবিধা পাচ্ছে। দাতব্য সংস্থাটি জানিয়েছে, উগান্ডায় এটি তাদের নির্মিত ৯৯৯তম পানির কূপ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, নতুন কূপটির চারপাশে স্থানীয় শিশুরা আনন্দঘন পরিবেশে জড়ো হয়েছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহের পরিবর্তে এখন হাতের কাছেই বিশুদ্ধ পানির উৎস পাওয়ায় স্থানীয় মানুষের সময় ও শ্রম দুটোই সাশ্রয় হবে।

সংস্থাটির মতে, নিরাপদ পানির সহজলভ্যতা শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পানি সংগ্রহে সময় ব্যয় কমে যাওয়ায় আরও বেশি শিশু নিয়মিত স্কুলে যেতে পারবে। পাশাপাশি স্থানীয়দের স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি, যা দীর্ঘমেয়াদে পানিবাহিত রোগ কমাতে সহায়ক হবে।

মানবিক ও দাতব্য কর্মকাণ্ডে বেলা হাদিদের সম্পৃক্ততা নতুন নয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়েও নিয়মিত সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন।

২০২৪ সালের শুরুতে বেলা ঘোষণা দেন, তাঁর প্রসাধনী ব্র্যান্ড Orebella-এর আয়ের একটি অংশ ‘ওরেবেলা অ্যালকেমি ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে ব্যয় করা হচ্ছে।

এ ছাড়া তিনি LimeLight Foundation-এর সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি লাইম রোগে আক্রান্ত শিশু ও কিশোরদের সহায়তা করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বেলা নিজেও লাইম রোগে আক্রান্ত এবং এ বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোলামেলা কথা বলে থাকেন।

বেলার বাবা Mohamed Hadid একজন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী। পারিবারিক ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের প্রভাব তাঁর বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও প্রতিফলিত হয় বলে মনে করেন অনেকেই।

ফ্যাশন জগতে বেলা হাদিদ বর্তমানে অন্যতম প্রভাবশালী মডেল। ২০১৪ সালে IMG Models-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বহু ফ্যাশন ব্র্যান্ডের হয়ে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি তিনি British Fashion Council থেকে ‘মডেল অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননাও অর্জন করেছেন।