‘বাকের ভাই’খ্যাত অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরের ৮০তম জন্মদিন ছিল ৩১ অক্টোবর। দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন এই নন্দিত অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ। বিশেষ এই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাবার জন্মদিনে আবেগঘন এক খোলা চিঠি লিখেছেন মেয়ে সুপ্রভা তাসনিম। চিঠিতে বাবার প্রতি ভালোবাসা, শৈশবের নানা স্মৃতি এবং তাঁর কাছ থেকে পাওয়া জীবনের শিক্ষার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। পাশাপাশি বাবার এমন কিছু দিকও সামনে এনেছেন, যা অনেকের কাছেই অজানা।
চিঠির শুরুতে সুপ্রভা লিখেছেন, ‘আজ তোমার ৮০তম জন্মদিন। তোমাকে কী বলব, সত্যিই বুঝতে পারছি না। সারাটা দিন তোমাকে নিয়ে মানুষের লেখা অসাধারণ কথাগুলো পড়েছি। এতে আমার মন গর্বে ভরে উঠেছে। একই সঙ্গে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে এই ভেবে যে, আজকের দিনটিতে তুমি একা।’
বাবার প্রতি ভক্তদের ভালোবাসার প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন সুপ্রভা। তাঁর ভাষ্য, ক্লান্ত থাকলেও আসাদুজ্জামান নূর ধৈর্য ধরে ভক্তদের অটোগ্রাফ দিতেন এবং ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে দাঁড়াতেন। অথচ তিনি মনে করতেন, একজন শিল্পীর খ্যাতি কেবল তাঁর নিজের অর্জন নয়; ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থনেই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন।
চিঠিতে বাবার সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কথাও স্মরণ করেছেন সুপ্রভা। বিশেষ করে নীলফামারীতে নার্সিং কলেজ ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কলেজ প্রতিষ্ঠা, বিনামূল্যে চিকিৎসাশিবির আয়োজন এবং অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা তহবিল গড়ে তোলার বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন। জন্মভূমিতে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণে নিজের জমিও দান করেছিলেন আসাদুজ্জামান নূর। মেয়ের ভাষ্য, এসব কাজ প্রচারের আড়ালে নীরবে করতেই পছন্দ করতেন তিনি।
বাবার সঙ্গে কাটানো শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়েছেন সুপ্রভা। রাতে ঘুমাতে না পারলে বাবার পিঠে হাত বুলিয়ে দেওয়া, চুলে আঙুল চালিয়ে দেওয়া, গোপনে আইসক্রিম খেতে দেওয়া কিংবা একসঙ্গে প্রিয় সিনেমা দেখার স্মৃতি তুলে ধরেছেন তিনি। মেয়ের বিয়ের দিন বাবার কান্না কিংবা বাড়ি ফেরার পর মেয়ের পছন্দের মাছ কিনতে নিজে বাজারে যাওয়ার মতো ছোট ছোট মুহূর্তও জায়গা পেয়েছে চিঠিতে।
সুপ্রভা লিখেছেন, এসব স্মৃতির কথা মনে পড়লে তাঁর কান্না পায়। অথচ বাবাই তাঁকে শিখিয়েছেন, জীবনে যত বাধাই আসুক, সাহসের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়।
চিঠির শেষাংশে বাবার মুক্তি ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা জানিয়েছেন সুপ্রভা। তিনি লিখেছেন, ‘আমি আশা করি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। অপরাধীরা জবাবদিহির মুখোমুখি হবে, নির্দোষরা মুক্তি পাবে। প্রতিহিংসার ওপর জয়ী হবে সহমর্মিতা, আর কুসংস্কার ও পক্ষপাতের ওপর জয়ী হবে যুক্তিবোধ।’
বাবাকে আবার বাড়িতে ফিরে পাওয়ার আকুতিও প্রকাশ করেছেন তিনি। সুপ্রভার প্রত্যাশা, একদিন বাড়ি ফিরে বাবাকে আবার তাঁর পড়ার ঘরে বসে প্রিয় কবিতাগুলো আবৃত্তি করতে দেখবেন। ভালোবাসা ও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠির শেষ করেছেন তিনি ‘শুভ জন্মদিন, বাবা।’