বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে পথচলা শুরু অর্পিতা মিত্রের। তবে অভিনয়ে আসার স্বপ্নটা হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। এক বন্ধুকে আগে থেকেই বলে রেখেছিলেন, টেলিভিশন বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজের সুযোগ পেলে যেন তাকে জানানো হয়।

২০২২ সালে সেই সুযোগ আসে। বন্ধু যখন একটি টিভিসির জন্য তার ছবি পাঠানোর কথা বলেন, এক মুহূর্তও দেরি না করে রাজি হয়ে যান অর্পিতা। ছবি পাঠানোর পর একটি ব্যাংকের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজের সুযোগ পান। এরপর আরও কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে দেখা গেছে তাকে।

মডেলিংয়ের পাশাপাশি নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাবও আসতে থাকে। তবে যেকোনো চরিত্রে অভিনয় করতে চাননি অর্পিতা। তার ইচ্ছা ছিল, প্রথম কাজটি যেন গল্পনির্ভর হয় এবং সেখানে অভিনয়ের সুযোগ থাকে।

সেই সুযোগই তিনি পেয়েছেন ‘তুমি তো চলেই যাবে’ নাটকে। নাটকটির ঊর্বী চরিত্রের স্ক্রিপ্ট হাতে পাওয়ার পর অর্পিতার মনে হয়, চরিত্রটি তার পরিচিত মানুষের মধ্যেও দেখা যায়। চরিত্রটির ভেতরের দ্বন্দ্বও তাকে আকৃষ্ট করে।

অর্পিতার ভাষায়, ঊর্বী ছিল একটি দ্বন্দ্বমুখর চরিত্র। তার মনে হয়েছিল, এই চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের সক্ষমতা দেখানোর সুযোগ রয়েছে। সেই কারণেই নাটকটি বেছে নেন তিনি।

রীতিমতো অডিশন দিয়েই অভিনয়ে অভিষেক হয়েছে অর্পিতার। ‘তুমি তো চলেই যাবে’ নাটকে খায়রুল বাসারের বিপরীতে অভিনয় করে প্রথম কাজেই দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার অভিনয় নিয়ে প্রশংসা করেছেন দর্শকেরা। অনেকে তার সাবলীল অভিনয়, চরিত্রের অনুভূতি প্রকাশ এবং সংলাপ পরিবেশনের স্বাভাবিকতার প্রশংসা করেছেন।

প্রথম কাজেই এমন সাড়া পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত অর্পিতা। তার ভাষায়, এত ভালোবাসা ও প্রশংসা পাবেন, তা তিনি নিজেও ভাবেননি। পাওয়া এই ভালোবাসাকে নিজের সৌভাগ্য বলেই মনে করছেন তিনি।

প্রথম নাটকের অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মাতা মাসুম শাহরিয়ার ও সহশিল্পী খায়রুল বাসারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অর্পিতা। বিশেষ করে শুটিংয়ের সময় খায়রুল বাসার তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান তিনি।

অভিনয়ের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছিল না অর্পিতার। এমনকি এর আগে থিয়েটারেও কাজ করেননি। তাই শুটিং শুরুর আগে নির্মাতা মাসুম শাহরিয়ার প্রায় এক মাস তাকে অভিনয়ের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ দেন।

রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন অর্পিতা মিত্র। তার মা গান করেন। ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গানের তালিম নিয়েছেন অর্পিতাও। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ২০১৭ সালে পড়াশোনার জন্য ঢাকায় আসেন তিনি।

২০২৩ সালে শিশুর বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন অর্পিতা। পড়াশোনার বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার গড়ার চেয়ে এখন অভিনয়কেই পেশা হিসেবে নিতে চান তিনি।

অভিনয়ে তার আগ্রহের জায়গাটাও বেশ স্পষ্ট। ‘দেবী’ কিংবা ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’-এর মতো বৈচিত্র্যময় ও নারীকেন্দ্রিক সংগ্রামের গল্পে অভিনয় করার ইচ্ছা রয়েছে তার। পাশাপাশি রোমান্টিক গল্পও পছন্দ করেন এই অভিনেত্রী।

বড় পর্দায় কাজ করার স্বপ্ন থাকলেও এখনই সিনেমা নিয়ে তাড়াহুড়া করতে চান না অর্পিতা। আপাতত ছোট পর্দায় নিয়মিত কাজ করে নিজেকে আরও পরিণত করে তুলতে চান। প্রথম নাটকেই পাওয়া দর্শকের ভালোবাসা তার সেই পথচলায় নতুন আত্মবিশ্বাস যোগ করেছে।